ধলাই নদীর ভাঙনে ঘরহারা রামপাশার শতাধিক পরিবার, বাঁধ নির্মাণে মানববন্ধন স্থানীয়দের
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা এলাকাসহ আশপাশের প্রায় ১০-১২টি গ্রামে ধলাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আবারও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে আছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১১ মে) দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ছাইয়াখালী হাওড় সংলগ্ন রামপাশা এলাকায় ‘ছাইয়াখালী হাওড় উন্নয়ন (পাবসস) লিমিটেড’ ও এলাকাবাসীর যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত ইসলামি নেতা সৈয়দ ইব্রাহিম মোহাম্মদ আবদুহু, পাবসস লি.-এর সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ, স্থানীয় নেতা নাজমুল হাসান মিঠু, ফখরু চৌধুরী, নিখিল মালাকার প্রমুখ।
বক্তারা জানান, বিগত কয়েক বছরের বন্যায় ধলাই নদীর ভাঙনে রামপাশা, রামপুর, নারায়ণপুর, চৈতন্যগঞ্জ, কুমড়াকাপন, কান্দিগাঁওসহ আশেপাশের গ্রামের বহু বসতঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুধুমাত্র রামপাশা গ্রামেই প্রায় ৪০-৫০টি পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের ভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোঃ আব্দুন নূর চৌধুরী, মোঃ আব্দুর রব চৌধুরী, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, এম আর খান, হারিছ মিয়া, লটা মালাকার, প্রবেশ কুমার পাল, বিকুল কুমার পাল, মণি দেবনাথসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ পদ্ধতিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও তা টেকসই হয়নি। বর্ষার পানির চাপে জিও ব্যাগগুলো নদীতে ভেসে গিয়ে বাঁধ এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত এই বাঁধ সংস্কার না করা হলে পুরো এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়বে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, নদীতে বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। এই বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।








