ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১২:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ছাত্রদল নেতার ছাত্রী ও তার বাবা বিরুদ্ধে মামলা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, May 13, 2025 - 6:10 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 84 বার

স্টাফ রিপোর্টারঃজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় প্রতিহিংসাবশত ওই সাবেক ছাত্রনেতা ছাত্রী ও তার বাবাকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়েছেন।

এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ গত ৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জমা দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযোগে তিনি মামলাটি হয়রানিমূলক উল্লেখ করে এর দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সাবেক ওই নেতা দাবি করেছেন, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখানের ঘটনার সঙ্গে মামলার কোনও সম্পর্ক নেই।

জানা গেছে, গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ময়মনসিংহ দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আজমত আলী। তিনি বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ সর্বমোট ২১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীও একই বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় হামলার মামলার একজন আসামি করা হয়েছে, আর তার বাবাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা একজন পেশাদার ট্রাকচালক। আর মামলার বাদী আশিকুর রহমান একই উপজেলার ভরাডুবা গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ছাত্রী বলেন, “২০২১ সালের শেষদিকে আশিকুর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর তিনি আমাকে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমার পরিবার সম্মত হলে তিনি হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিছুদিন পর পারিবারিকভাবে আমার অন্যত্র বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আশিকুর আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার পরিবার এবার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই হুমকি দিতে শুরু করেন যে, তিনি আমাদের পরিবারকে রাজনৈতিক মামলায় জড়াবেন। এরপর থেকেই একে একে আমার বাবাকে এবং পরে আমাকে দুটি রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা হয়।”

ছাত্রীটি দাবি করেন, মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।