লাউয়াছড়া থেকে হামহাম, মৌলভীবাজারে ঈদের আমেজে ঘুরে বেড়াল দেশ
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশজুড়ে পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ। সেন্ট মার্টিন ও সাজেকের কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে চায়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চলে বেড়েছে পর্যটকের চাপ।
সবুজের সমারোহ, পাহাড়-টিলা ঘেরা চা-বাগান আর জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, রাজকান্দি বন, চা গবেষণা কেন্দ্র, দার্জিলিং টিলা, নীলকণ্ঠ সাতরঙা চা কেবিন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, বধ্যভূমি ৭১, নুরজাহান চা-বাগানসহ শতাধিক স্পট ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
৪ দিনে লাউয়াছড়ায় প্রায় ৪ হাজার পর্যটক
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পরের চারদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৩,৯৪৬ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর প্রশাসন
লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তায় বনকর্মী, সিপিজি ও ট্যুরিস্ট গাইড কাজ করছেন। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশের টিম মাঠে রয়েছে।”
শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রতিটি স্পটে নিয়মিত টহল চলছে। ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।”
কমলগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবীর বলেন, “প্রতিদিন থানা পুলিশের একটি টিম ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে।”
পর্যটকদের মুখে মৌলভীবাজারের প্রশংসা
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আসিফ বলেন, “এটা বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর এলাকা। প্রকৃতি ও চা-বাগানের পরিবেশ দারুণ লেগেছে।”
সাতক্ষীরা থেকে আসা তান্নী হাসান জানান, “নুরজাহান চা বাগান ও গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টে ঘুরে ভালো লেগেছে। পুরো এলাকা সবুজ আর শান্তিপূর্ণ।”
সিলেট থেকে আসা শিক্ষিকা মিলি আক্তার বলেন, “শিশুরা খোলা মাঠে খেলেছে, শহরের বাইরে এমন খোলামেলা পরিবেশে ঈদের ছুটি কাটানো দারুণ আনন্দের।”
মৌলভীবাজারে পর্যটনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা
সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটি নিরাপদ রাখতে প্রতিটি স্পটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, চা-বাগানের মনোরম দৃশ্য, এবং এখানকার শান্ত পরিবেশ প্রতিবছর হাজারো পর্যটককে আকৃষ্ট করে। ঈদের মতো ছুটিতে এ অঞ্চলের পর্যটন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।








