ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ২:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পঞ্চগড়ে বন্ধের পথে ‘উত্তরা গ্রীন টি ইন্ডাস্ট্রিজ’

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, July 29, 2025 - 4:20 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 172 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃপঞ্চগড় সদর উপজেলার কেচেরাপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘উত্তরা গ্রীন টি ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে একটি চা কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ও তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় কিছু চা ব্যবসায়ী এবং মালিক পক্ষের আরেকটি গ্রুপ তাদের কারখানা দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসন, চা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, মালিকানা বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে কারখানাটি এখন কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে, ফলে শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।

২০১৮ সালে তৎকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনের উদ্যোগে সাত বিঘা জমির ওপর কারখানাটি স্থাপিত হয়। সরকারি চাকরিতে থাকায় নিজের নামে নিবন্ধন না করে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠজন কাজী এ এন এম আমিনুল হকের নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রেশন করান। তিনি ৬৫ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছে রেখে বাকি ৩০ শতাংশ আব্দুর রাজ্জাক এবং ৫ শতাংশ তারিকুল ইসলামকে দেন।

পরবর্তীতে কাজী আমিনুল হক তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের মধ্যে শেয়ার ভাগ করে দেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৫ শতাংশ শেয়ার অনির্ধারিত থেকে যায়। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ছিল ২০ থেকে ৩০ হাজার কেজি চা, যা পরিচালনার জন্য রূপালী ব্যাংক (দিলকুশা শাখা) থেকে প্রায় ২৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

আব্দুর রাজ্জাক ও তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ তাঁদের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়, যার বিপরীতে তিন মাসের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৯৫ লাখ টাকা বকেয়া। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ।

তাঁরা বলেন, কোনো প্রকার অবহিত না করেই বোরহান উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছে কারখানাটি তিন বছরের জন্য লিজ দিয়েছেন। অথচ তারা এখনো রেকর্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বৈধ পরিচালক। কারখানায় প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বোরহান উদ্দিন বলেন, “তাঁরা শেয়ার হস্তান্তর করেছেন, সবকিছু আইনগতভাবেই হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক সহায়তা নেওয়া হয়নি।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমন চন্দ্র দাশ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তবে চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খান ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।