পানছড়িতে জমি বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আহত ৩
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের হামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাঈলসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদ ও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল হাসেম।
শনিবার (৯ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়ানগর গ্রামের মো. আবুল কাসেম প্রায় ২৫ বছর আগে ওমরপুর এলাকায় জমি কিনে বাগান সৃজন করেন। পরে প্রতিবেশী মো. রুহুল আমিন জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস হলেও সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে শালিস হয় এবং ৯ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণের কথা ছিল।
ঘটনার দিন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মো. নুর ইসলামকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে জমি বিরোধের মীমাংসা শেষে ফেরার পথে মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগমের ছেলে মো. নুর ইসলাম, হানিফের ছেলে আল মামুন ও নজরুল ইসলামের ছেলে সুমনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইসমাঈলের বাম হাতে কোপ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।
আহতরা বর্তমানে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে নুর ইসলাম দাবি করেন, “ইসমাঈল ও মাসুদ ওমরপুরে চাঁদাবাজি করতে গেলে আমি বাধা দিই। এতে তারা আমাকে মারধর করে সংজ্ঞাহীন করে ফেলে। পরে আমি কিছু লোক নিয়ে তাদের ওপর হামলা করি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে আগে জানতাম না। অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জমির সীমানা নির্ধারণের সময় নুর ইসলাম তার দলবল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আল মামুন ও সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।








