ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:১১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

মনিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, August 14, 2025 - 11:55 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 139 বার

রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে অবস্থিত মনিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৭ জন শিল্পীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা পড়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই ঢাকার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘জাতি বৈচিত্র দিবস ২০২৫ (জুলাই পূর্ণজাগরণ অনুষ্টানমালা)’ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রভাস চন্দ্র সিংহ কমলগঞ্জ থেকে ৭ জন শিল্পীকে নিয়ে ঢাকায় যান এবং ফকিরাপুলের একটি হোটেলে অবস্থান করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি হোটেল বুকিং বাতিল করে শিল্পীদের নিজ উদ্যোগে রাতেই ঢাকা ত্যাগের পরামর্শ দেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, যাতায়াত ও সম্মানী বাবদ প্রত্যেকের জন্য ৪ হাজার ৫ শত টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৭ জনকে যৌথভাবে মাত্র ২৪ হাজার ৫ শত টাকা দেওয়া হয়। এ অর্থ থেকেও ঢাকায় যাতায়াতের মাইক্রোবাস ভাড়া বাবদ ৭ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হয়, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম। ফলে তাদের নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে কষ্টে বাড়ি ফিরতে হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫৫ জন শিল্পী ও কলাকুশলীর জন্য ২ হাজার টাকা হারে সম্মানী বরাদ্দ থাকলেও প্রভাস চন্দ্র সিংহ বিভিন্নজনকে ৫ শত, ১ হাজার ও ১৫ শত টাকা প্রদান করে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করেন। এমনকি একাডেমির স্থানীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও বহুবার শিল্পীদের নামে ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী শিল্পী ধীরেন কুমার সিং জানিয়েছেন, প্রভাস চন্দ্র সিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীনের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাস চন্দ্র সিংহ বলেন, “এটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ। অভিযোগকারীরা এমনকি নিজেদের পদবীও গোপন করেছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, “উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।