ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১১:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সেনাবাহিনী নিয়ে কটূক্তি প্রসঙ্গে ওরা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তখন লজ্জিত হবে: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, August 20, 2025 - 12:43 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 210 বার
মোঃ নাসির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ আমি মোঃ নাসির মনে করি -বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের নিবেদিত ও কার্যকর কর্মক্ষমতার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। সত্যিকারের গণবাহিনী হিসেবে, তারা সর্বদা জাতির পাশে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে দুর্যোগের সময়ে, অমূল্য সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করেছে।
বর্তমান সেনাপ্রধানের (জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান)নেতৃত্বে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। দেশের উন্নয়নের জন্য এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য, এবং সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশের জনগণ উন্নতি করতে পারে। আমি গভীরভাবে গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেশসেবা ও সুরক্ষায় অটল উত্সর্গের জন্য। জনগণকে সমর্থন এবং জাতীয় নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার জন্য তাদের ক্রমাগত প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, দেশপ্রেম ও নিঃস্বার্থতার প্রকৃত চেতনাকে মূর্ত করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে নানা ধরনের কটূক্তি প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এসব গালিগালাজ শুনে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তারা আমাদের সন্তানের বয়সী। ওরা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তখন লজ্জিত হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীর উপস্থিত ও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানিয়েছে।সেনাপ্রধান বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে এত দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়নি। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে। সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারি দেখাতে হবে। প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়ানো যাবে না।নাম উল্লেখ না করে সেনাপ্রধান বলেন, একজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না। আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। নৈতিক স্খলনের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া হবে না, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তাই কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আগেভাগেই খেয়াল রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে সেটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে অনেক ধরনের কটূক্তির বিষয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তাদের বয়স কম, আমাদের সন্তানের বয়সী। তারা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তখন নিজেরাই লজ্জিত হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন সেনাসদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয় উল্লেখ করে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারেন, সেদিকে আগেভাগেই খেয়াল রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে সেটা রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় ছাড়া আর কিছু হয় না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো এসব বার্তা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সব সময় সতর্ক থাকবেন, যাতে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে।

সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের মানুষ এখন তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাঁদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।