পঞ্চগড়ের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের হাতে কৃষি সহায়ক রোবট
স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃ চা বাগানে কখন পানি দিতে হবে, সেটি জানিয়ে দেবে রোবট। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনমতো নিজেই পানি সেচও করবে সে। আবার কোনো শিশু পানিতে খেলা করার সময় বিপদে পড়লে সেটিও জানাবে রোবট। এমনকি খেতে পোকার আক্রমণ ঘটলে কৃষককে সিগনালের মাধ্যমে সতর্ক করবে। এই অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে পঞ্চগড়ের প্রান্তিক এলাকার স্কুলপড়ুয়া ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে “লিডারশিপ দ্য প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড (এলপিএ)” নামে একটি বিজ্ঞান ক্লাব। তাদের আয়োজনে জেলার পাঁচটি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয় রোবোটিক্স ও হোম অটোমেশন কর্মশালা। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা মিলনায়তনে দিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা জেলার সমস্যা ও সমাধান ভিত্তিক তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে এককভাবে ৩টি ও দলীয়ভাবে প্রায় ৩০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। এর মধ্যে তিনজনকে সেরা হিসেবে পুরস্কৃত করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কৃষক, চা চাষি, শ্রমিক, শিশু ও অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহারের জন্য নানা যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব যন্ত্র বাজারজাত করা সম্ভব বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, প্রান্তিক এলাকায় বসবাসের কারণে বিজ্ঞানচর্চা থেকে তারা বঞ্চিত। এজন্য সরকারি উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ল্যাব ও রোবোটিক্স গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, “বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।” পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। উপস্থিত ছিলেন নিউজ২৪ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সরকার হায়দার, এলপিএ’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. রাফি এবং পরিচালক সোলাইমান আলী প্রমুখ।
প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবন শুধু প্রযুক্তির নয়, আশা জাগায় আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকেও








