ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৮:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, November 17, 2025 - 11:32 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 40 বার

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ :ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দকে বাদ দিয়ে বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন একজন কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দাবী করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন দলের একটি অংশ। আসনটিতে বিএনপির ঘোষিত প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বালিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলীয় নেতাকর্মীরা।

রবিবার (১৬ নভেম্বর)বিকালে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আবুল বাসার আকন্দের পক্ষে মনোনয়নের দাবীতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ফুলপুর উপজেলার বালিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত নারী ও পুরুষ অংশ নেয়।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কৃষক দলের এক নেতা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আবুল বাসার আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছেন।তিনি বিপুল ভোটে এই এলাকায় এর আগে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন। উপজেলার সকল পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের খোজ খবর রাখেন, তাই জনবান্ধব নেতা হিসেবে তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, তাঁরা চূড়ান্ত মনোনয়নে আবুল বাসার আকন্দের নাম ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই মুক্তিযোদ্ধা সামরিক শাসক এরশাদের আমলেও দলের হাল ধরেছিলেন, যখন অনেকেই দল ত্যাগ করেছিলেন। আগামী দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও তারকের রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সংসদীয় আসনে ধানের শীষের কান্ডারী হিসাবে সাবেক এমপি আবুল বাসার আকন্দের বিকল্প নেই বলেও জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।

১৯৯৬ সালে ফুলপুর–তারাকান্দা থেকে বিএনপির প্রথম এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন আবুল বাসার আকন্দ। ২০১৪ সালে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আপস করেননি এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। মামলা–হামলা–গ্রেপ্তারের সময় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনি সহায়তাও দিয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তিনি নিজে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়াননি এবং তাঁর অনুসারীরাও যেন এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হন—তা নিশ্চিত করেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতা হিসেবে ফুলপুর–তারাকান্দায় পরিচিতি পেয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “এমন একজন যোগ্য নেতার হাতেই ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হলে এই আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হবে। অন্যথায় ফল নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।”

মিছিলে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আবুল বাসার আকন্দ বলেন, “এই আসনে যে প্রার্থীর নাম প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, তা ফুলপুর–তারাকান্দার ভোটারদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।

যেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে তার কাছ থেকে জন গন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। প্রথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।” তিনি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রতি মাঠপর্যায়ের সঠিক তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের মানুষের সুখে দুখে পাশে ছিলাম। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারব।”