ঢাকা | এপ্রিল ২৬, ২০২৬ - ৫:০৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ফসল মাঠে বন্য শূকরের হানা: ফসল রক্ষায় বাঁশের মাচায় কৃষকের রাতজাগা পাহারা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, November 22, 2025 - 2:24 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 139 বার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমিতে বন্য শূকরের তাণ্ডব দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অন্ধকার নামলেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বের হয়ে আসে বুনো শূকরের দল। মুহূর্তেই নষ্ট করে দেয় পাকা ধান, আলু, মুলা, কলাসহ বিভিন্ন ফসল। প্রায় এক মাস ধরে উপজেলার লংগুরপার, দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, সরইবাড়ি, ভেড়াছড়া ও ছাতকছড়া এলাকায় এ তাণ্ডবে দিশেহারা কৃষকেরা।
ফসল ঘরে তোলার প্রহর গুনতে থাকা কৃষকদের এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা কিভাবে বাঁচাবেন বছরের পরিশ্রমের ফল। এ অবস্থায় কৃষকেরা রাত জেগে পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ বাঁশের মাচা বানিয়ে বসে থাকেন, কেউ আবার প্লাস্টিক ও টিনের ড্রাম বাজিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সন্ধ্যা নামলেই বন্য শূকরের ঝাঁক হানা দেয়। একসাথে ১০-১৫টি শূকর নেমে আসে ধানের জমিতে। ধান, সবজি, এমনকি কলাগাছ পর্যন্ত উপড়ে ফেলে। শূকর তাড়াতে গেলে উল্টো ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটে। ফলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
কৃষক মফিজ মিয়া বলেন, “শূকর সব ধান-সবজি নষ্ট করে ফেলছে। তাই ৬ ফুট উঁচু বাঁশের মাচা বানিয়ে রাতে বসে থাকি। প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামের শব্দ করে তাড়াতে হয়। না হলে এক রাতেই জমির সব শেষ করে দেবে।”
মফিজ মিয়ার মতোই রাতভর পাহারা দিচ্ছেন কৃষক কনাই মিয়া, আবুল মিয়া ও আশিক মিয়া। ফসল কাটার আগ পর্যন্ত এ পাহারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তাঁরা। তাদের অভিযোগ এ সমস্যায় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে ফসল পাহারা দিচ্ছেন মাধবপুর এলাকার কৃষক সুফি মিয়াও। তিনি বলেন, “একসাথে ১০-১৫টি শূকর নেমে আসে। ভয় লাগে। টর্চ মেরে আর শব্দ করে তাড়াতে হয়। পুরো রাত না জাগলে ধান রক্ষা করা যায় না।”
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি কমলগঞ্জের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন শুভ বলেন, “বনভূমি উজাড় ও বেদখলের কারণে বন্যপ্রাণীরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে। আগে এমন ছিল না। লাউয়াছড়ার দখলকৃত বনভূমি দ্রুত উদ্ধার করে বনজ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে।”
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জামিল মোহাম্মদ খান বলেন, “বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট এলাকা নেই। খাবারের জন্য লোকালয়ে যাচ্ছেই। লাউয়াছড়ায় বুনো শূকরের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ফসল ক্ষতির ঘটনা দুঃখজনক।”
তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাণী মারার জন্য কেউ যেন মারাত্মক ফাঁদ ব্যবহার না করে। করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীতের রাতে ধান রক্ষার এই লড়াই কৃষকদের জন্য এখন এক কঠিন বাস্তবতা। ফসল নিরাপদ রাখতে সরকারি উদ্যোগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে মাঠে-ঘাটে।