মোঃ নাসির, নিউ জার্সি (আমেরিকা) প্রতিনিধিঃ ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করছে। এর ফলে কোনো আবেদন সম্পর্কে অনুমোদন, বাতিল বা বন্ধ করা জাতীয় কোনো রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন। এ ছাড়া, যারা এখনো নাগরিকত্ব পায়নি তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে।একই সঙ্গে ১৯টি দেশের অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে সামপ্রতিক হামলাকে বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প প্রশাসন।স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের পাশে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। এরপরই অভিবাসন স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসি নিউজ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে কোনগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে গণ্য হবে তা স্পষ্ট করেননি।
‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি মোটামুটি এমন দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর দারিদ্র্যের হার বেশি। অর্থনৈতিকভাবেও অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছে।থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সারাহ বেকস্ট্রমের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও অসাধারণ মানুষ ছিলেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরে প্রেসিডেন্ট নিহত সদস্যের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। সারাহ বেকস্ট্রম ২০২৩ সালের ২৬ জুন ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের ৮৬৩তম মিলিটারি পুলিশ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জিম জাস্টিস তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আফগানিস্তান থেকে আসা ২৯ বছর বয়সী রহমানুল্লাহ লাকানওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং আফগানদের জন্য চালু বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ন্যাশনাল গার্ডের তিন সদস্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে গুলি ছোড়েন। সংঘর্ষে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চিকিত্সাধীন আছেন।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের ইস্যু করা গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করবে। নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার প্রধান জোসেফ এডলো বলেছেন, উদ্বেগজনক দেশ থেকে আসা বিদেশির গ্রিন কার্ড কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে প্রেসিডেন্ট তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কোন কোন দেশ সেই তালিকায় আছে- এমনটা জানতে চাইলে অভিবাসন পরিষেবা থেকে হোয়াইট হাউসের গত জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করা হয়। ওই ঘোষণায় আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম ছিল।