বাংলাদেশে কোরআন এবং সুন্নাহর আইন চালু করতেই ৮ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে- মজিবুর রহমান
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ : জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছর আমরা শান্তি পাই নাই, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মানুষ যখন আল্লাহর আইনে পরিপূর্ণ আনুগত্য করবে তখন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। কোরআন এবং সুন্নাহর আইন বাংলাদেশে কায়েম হবে, এই আইন চালু করার জন্য ৮ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটার জন্য যদি জিহাদ করতে হয়, জীবন দিতে হয়, আপনারা কী রাজী আছেন? আগামী দিনে প্রয়োজন হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার কার্যকর এবং নির্বাচনের আগে গণভোটসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় জামায়াতের নায়েবে আমীর নিজেদের ৫ দফা দাবির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ৫ দফা দাবি করেছিলাম। তার একটা হলো যারা চুরি, ডাকাতি করেছে, মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। এখন কেউ কেউ বলছে আমরা ক্ষমতায় গেলে সব বিচার উঠিয়ে দিব। তাহলে অপরাধ যে করে এবং অপরাধ যে সমর্থন করে, তারা কী- আলাদা হলো না এক হলো? তাহলে পতিত শক্তি আর নব্য যারা আগামীদিনে নিজেদেরকে ঘোষণা করেছে যে- তারা এদেশকে পরিচালনা করবে। আমরা বলছি- জনগণ ভোট দিলে আপত্তি আমাদের নাই কিন্তু ভোট না পেয়েই যদি এসব কথা বলা শুরু করেন তাহলে তো মতলবটা ভালো বুঝা যায় নাই। দুই নম্বরে আমরা বলেছি গণভোট দিতে হবে। গণভোট মানে পাবলিকের ভোট। জনগণকে যারা ভয় করে তারা কী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে ? গণভোট মানতে হবে, সেটা হতে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। তাহলে গণভোটের সত্যিকার মূল্য মানুষ বুঝতে পারবে। আমরা কারো বিরুদ্ধে চরম কথা বলতে চাই না। মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দিতে হবে। তাহলে সংগ্রাম, মারামারি জুলুম কমে যাবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর হযরত মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন-স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমরা নিজেরা স্বাধীন হতে পারি নাই। এখনও বৈষম্য হচ্ছে, জুলুম হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে। এই বৈষম্য জুলুমমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করার জন্যই আট দল গঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে আপনারা আমাদেরকে বিজয়ী করলে আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ, খেলাফতের বাংলাদেশ। আগামী সংসদ হবে ইসলামী সংসদ। এসময় অন্তবতীর্কালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বৈষম্যমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজেই বৈষম্য তৈরি করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরও বলেছেন, মানুষের তৈরি মতবাদ বাংলাদেশকে ৫৪ বছর শাসন করেছে। কিন্তু মানুষের মুখে হাসি ফুটে নাই, দুঃখ দুর্দশা দূর হয় নাই। অনেক কষ্টে দেশের মানুষ ৫৪ বছর কাটিয়েছে, আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে দেশের সব প্রতিষ্ঠান চলবে আল্লাহর আইনে, ইসলাম বিরোধী কোনো আইন এখানে চলতে পারবে না। আল্লাহর দেয়া হাত দিয়ে সিল মারবো আল্লাহর আইনের পক্ষে। হাত উঠিয়ে আল্লাহকে দেখান। ওয়াদা করেন, যতদিন বেঁচে থাকব আল্লাহর আইনের পক্ষে থাকবেন।
সমাবেশে ইসলামি আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরও বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সচিবায়লসহ সকল প্রতিষ্ঠান কেবলমাত্র আল্লাহর আইন ধারা পরিচালিত হবে। ইসলাম বিরোধী কোন আইন চলবে না। বাংলাদেশের সকল দল ইসলামের পতাকাদলে আসবে আশা ব্যক্ত করে বলেন, ২০১৪, ১৮ এবং ২৪ স্টাইলের মত নিবার্চন আমরা চাই না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্ঠাকে তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান।
বেলা ১২টা থেকে বিভাগের চার জেলা হতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকমীর্রা জরো হোন। এসময় তারা আগামীতে আটদলের বিজয় সুনিশ্চিত বলেও দাবী জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ হাদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হাক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব হযরত মাওলানা মূসাবীন ইজহার প্রমূখ।








