ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তানোরে নবান্ন ও বীজ বিনিময় উৎসব-১৪৩২ অনুষ্ঠিত

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, December 8, 2025 - 12:37 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 31 বার

সোহানুল হক পারভেজ, তানোর রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান : রাজশাহীর তানোরে লোকজ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবকে ঘিরে সর্বস্তরের কৃষকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এসো মিলি সবে, লোকজ বাংলার নবান্নের উৎসবে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নবান্ন ও বীজ বিনিময় উৎসব-১৪৩২ আয়োজন করে বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংক।

আজ  ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচন্দর ইউনিয়নের দুবইল মাঠে দিনব্যাপী উৎসবটি উদযাপিত হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকার কৃষক,অভিজ্ঞ বীজ সংরক্ষণকারীগণ, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বরেন্দ্র বীজ ভান্ডারের সভাপতি জাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে উৎসবের উদ্বোধন করেন তানোর সার্কেলের এডিশনাল এসপি হেলেনা আক্তার, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে সমগ্র আয়োজনের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—কবি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন শেখ মুকিত বাবু দুলাল কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারোয়ার জাহান হাছান সিদ্দিকী শরীফ উদ্দিন স্বশিক্ষিত কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ আলী কামারগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রভাত মৃধা অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে কৃষকের বীজ সংরক্ষণ, লোকজ কৃষি ঐতিহ্য রক্ষা ও নবান্নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংকের সৌজন্যে এ বছর ৫ জন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কৃষককে বিশেষ সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা তাদের নিজস্ব সংরক্ষিত ধানের বীজসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের ফসলের বীজ একে অন্যের সাথে বিনিময় করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবার (টি.এস.সি) সংগ্রামী সভাপতি এবং পারভেজ মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহানুল হক পারভেজ। উৎসবের সার্বিক সহযোগিতা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক। সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, স্থানীয় কৃষিভিত্তিক জ্ঞান, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এমন উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নবান্নের আনন্দে পুরো মাঠ জুড়ে ছিল খই, পিঠা, নতুন চালের ভাত, স্থানীয় উপকরণে তৈরি খাবারসহ লোকজ পরিবেশনার সমাহার। কৃষকদের মাঝে বীজ বিনিময়, আলোচনা সভা এবং অভিজ্ঞ কৃষকদের অভিজ্ঞতা শেয়ার—সব মিলিয়ে উৎসবটি ছিল জ্ঞান-বিনিময় ও ঐতিহ্য রক্ষার এক প্রাণবন্ত আয়োজন।