হাড়কাঁপানো শীতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান।
পৌষের তীব্র শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, ঠিক তখনই আশীর্বাদ হয়ে হাজির হন ইউএনও।
বুধবার দিবাগত রাতে তিনি কমলগঞ্জ পৌর এলাকার রেলওয়ে স্টেশন, বিভিন্ন বাজার ও উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোতে গিয়ে নিজ হাতে শীতার্ত মানুষের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন।
নীরব রাতের নিস্তব্ধতায় সরকারি এই উপহার পেয়ে অনেক শীতার্ত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হঠাৎ এমন মানবিক সহায়তা পেয়ে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।
এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে ইউএনও’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি আহমেদুজ্জামান আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রকৃত অসহায় মানুষের হাতেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি আহমেদুজ্জামান আলম বলেন,
‘শীতের এই কঠিন সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সরকারি কর্মকর্তার এই মানবিকতা দুস্থ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কেউই শীতের কষ্টে পড়বে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,
‘তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেই রাতের আঁধারে এই ঝটিকা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
যারা লোকলজ্জার কারণে দিনের বেলা সাহায্য চাইতে পারেন না এবং যারা রাস্তাঘাটে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান মূলত সেই প্রকৃত অসহায় মানুষদের জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। প্রধান উপদেষ্টার এই উপহার পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’