নির্বাচনী আচরণবিধিকে তোয়াক্কা করছেনা সারজিস আলম
স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃbআগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিক বরাদ্দের আগেই আচরনবিধি না মেনে প্রচারনার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়-১ অসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরূদ্ধে। প্রতিদিনইন ফেসবুকে ভোট প্রার্থনার ভিডিও প্রচার এবং দলীয় নেতকর্মীদের সাথে নিয়ে সংসদীয় এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সারজিস। প্রায় ছয়টি ফেসবুক আইডি থেকে বিনা বাধায় প্রচারনা করছেন। এতে করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি আচরনবিধি লংঘন করছেন বলে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী সমর্থকদের অভিযোগ।
দেখা গেছে প্রতিদিন সকালে তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাস সহ এনসিপির নেতাদের নিয়ে মিটিং পথসভা এবং গ্রামে লোকজন জড়ো করে ভোট প্রার্থনা করছেন। সেই সাথে প্রচারনার ভিডিও করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অথচ আচরন বিধিমালায় প্রতিক বরাদ্দের আগে পথসভা করার উল্লেখ নেই। দেখা যাচ্ছে সারজিস আলম ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি কার্যকর হলেও বাস্তবে তা প্রার্থীদের মানাতে প্রশাসনের কোন নজরদারী দেখা যায়নি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এর আগে যেকোনো ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কিন্তু পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলের প্রার্থী সারজিস আলম আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তফসিল ঘোষণার পরও তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাদের ভাষায়, সারজিস আলম নিষিদ্ধ সময়সীমাকে পাত্তা দিচ্ছেন না এবং আচরণবিধির ৪ নম্বর বিধানও অমান্য করছেন।
বিষয়টি শুধু মাঠের কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, সারজিস তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফেসবুক পেজসহ ছয়টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে কন্টেন্ট তৈরি করে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আচরণবিধির ২৫ নম্বর বিধি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা।
তারা আরও বলে রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের চোখের সামনে দিনের আলোয় সংঘটিত হচ্ছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। নির্বাচনী মাঠে মানুষের অধিকার ও ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নীরব থাকার কারণে প্রশ্ন উঠেছে—এই নির্বাচনের আচরণবিধি কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদ ও সংস্থার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও যদি অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আচরণবিধি লঙ্ঘন ঘটতে থাকে, তাহলে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনজুরুল হাসান জানান আসলে প্রতিক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারনা সহ দলবেঁধে ভোট প্রার্থনা এবং পথসভা মিছিল মিটিংয়ের সুযোগ নেই ইহা স্পস্ট আচরনবিধি লংঘন তবে কোন প্রার্থী কিংবা প্রার্থীর সমর্থক এখন পর্যন্ত আচরনবিধি লংঘন বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামানের সাথে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








