ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পটুয়াখালীতে মায়ো ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, January 26, 2026 - 1:48 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 39 বার
মু,হেলাল আহম্মেদ রিপন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর পৌর শহরের মুকুল হল সিনেমা সংলগ্ন মায়ো ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা দেয়ায় কৃষ্ণা রানী (৩২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে।
 গত (২৫ জানুয়ারী)রোববার  বিকেল ৫ টার দিকে জেলা শহরের মুকুল সিনেমা হল রোড এলাকার মায়ো ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী  কৃষ্ণা রানী আমতলী উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর পরিমল হাওলাদার, পেশায় তিনি  ব্যবসায়ী।
এ ব্যপারে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, রোববার বিকেল ৫টার দিকে কৃষ্ণা রানীকে পটুয়াখালী কলের পুকুর পাড়  মায়ো ক্লিনিকে এনে  ভর্তি করানো হয়। ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তার অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল পাঠানো হয়। পথেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানান মৃত্যুের স্বজনরা।
অভিযোগে বলা হয়, রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লিনিক ত্যাগ করেন। পরে তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
নিহতের বড় বোন বিষ্ণু রানী বলেন, ক্লিনিকে ভর্তি করানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসক সঞ্চারী পাল রিমি দ্রুত অপারেশনের কথা বলেন ও রক্ত সংগ্রহ করতে বলেন। আমরা রক্ত সংগ্রহ করতে থাকলে আমার বোনের ১২ বছর বয়সি বড় মেয়ের রক্ত নিয়েই সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের আরেক ছোট বোন লক্ষ্মী রানী অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে ভর্তি করানোর পরপরই তারা বলেন অপারেশন করতে হবে। আমি বলেছিলাম, হাতে তো এখনো সময় আছে, পরে করলেও হবে। কিন্তু তারা জানান, আট দিন আগের রিপোর্ট দিয়েই অপারেশন করা হবে। আমি আবার বলি, রোগী ভাত খেয়ে এসেছে, অন্তত দুই ঘণ্টা পরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে অপারেশন করানো উচিত। এখনই সিজার করলে ঝুঁকি আছে। তখন তারা বলেন, এখন অপারেশন না করলে বাচ্চার সমস্যা হবে। তবে অপারেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পরে শিশু বাচ্চাটি সুস্থ এবং জীবিত আছে।
তিনি আরও বলেন, অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয় ও দ্রুত বরিশাল নিয়ে যেতে বলে। ক্লিনিকের লোকজন নিজেরাই হাতে ধরে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে। কিন্তু লেবুখালী পার হওয়ার আগেই আমার বোন মারা যায়।
উক্ত ঘটনার ব্যপারে নারী ডাক্তার সাঞ্চারী পাল(রিমি) ক্লিনিকে না থাকায় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান,ঘটনার খবর পেয়ে  আমি এখানে এসে দেখলাম কৃষ্ণ রানী নামে একজন নারী চিকিৎসাধীন ছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অপারেশন করা হয়েছে। এরপরে তিনি মারা গিয়েছেন এই সংবাদ পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। স্থানীয়রা  পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছি।  তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি ক্লিনিকে।।