রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে দ্বিমুখি লড়াইয়ের আভাস
সোহানুল হক পারভেজ, রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ায় প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের ধারণা—এ আসনে মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এ আসনে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান এবারও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গোদাগাড়ী ও তানোরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সেরাজুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।
বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিনের শক্ত অবস্থান,অপরদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর ভাই এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিন। তিনি এর আগে কখনো সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও বিএনপির নীরব সমর্থনের কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবাবুইপাড়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ফহীম উদ্দীন বিশ্বাস।
এ আসনে আরও দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান (ট্রাক প্রতীক)। তাঁর পিতার নাম মির মো. আজাহার। বাড়ি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায়। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান (ঈগল প্রতীক)। তাঁর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর রোডপাড়া শ্যামপুর এলাকায়। তবে স্থানীয় ভোটারদের বড় অংশের মতে, এই দুই প্রার্থী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবেন না।ভোটার সংখ্যা ও ভৌগোলিক হিসাব নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন।এর মধ্যে—গোদাগাড়ী উপজেলা: ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন।নারী ভোটার: ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন তানোর উপজেলা: ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন।পুরুষ ভোটার: ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন নারী ভোটার: ৮৭ হাজার ৩২৪ জন
বদলেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং ভোটের মাঠে ফিরেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ।
তানোরের ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে ফল। স্থানীয় ভোটারদের অভিমত অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিন ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যেহেতু দুই প্রার্থীর বাড়ি একই উপজেলা গোদাগাড়ীতে, তাই বিপুল সংখ্যক ভোট সেখানে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ কারণে তানোর উপজেলার ভোটাররা যেদিকে গড়বে, সেই দলই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রচারে জামায়াত এগিয়ে, বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে তাঁর পক্ষে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে দাবি করছেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বাড়তে পারে—এমন ধারণাও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু ভোটার ও কর্মী নীরবে জামায়াত প্রার্থীর প্রতি ঝুঁকছেন বলেও আলোচনা রয়েছে।শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা ব্যালটের রায়ের নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ব্যালটের রায়ে। এখন শুধু অপেক্ষা—রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে তাঁদের সংসদ সদস্য হিসেবে বেছে নেন।








