ঢাকা | এপ্রিল ২৪, ২০২৬ - ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তানোরে কাটুই পোকার আক্রমণে আলু, দিশাহারা চাষীরা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, March 24, 2026 - 3:47 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 67 বার

সোহানুল হক পারভেজ রাজশাহী ব্যুরো প্রধান :রাজশাহীর তানোরে আলু উত্তোলনের আগ মুহূর্তে ল্যাদা বা কাটুই পোকার ব্যাপক আক্রমণে আলু খেয়ে গর্ত করা শুরু হয়েছে। পোকার আক্রমণে শেষ মুহুর্তে আলু রক্ষা করতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ফল পাচ্ছেন না চাষীরা। আলুর বাজার নিন্মমূখী, কাঙ্ক্ষিত ফলন নেই, বস্তার দাম বাড়তি, ফড়িয়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে বাজার কখনো নামছে আবার কখনো কিছুটা বাড়ছে, বহন খরচ বাড়তি, শ্রমিক সংকট চারদিক থেকে যখন আলু চাষীরা মহা বিপদে। ঠিল তখনই আবহাওয়া জনিত কারনে পোকার আক্রমণে বেকায়দায় চাষীরা।

এযেন গোদের উপর বিষফোড়া বা মরার উপর খাড়ের ঘায়ের মত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে চাষীদের মাঝে। এতে করে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক চাষীরা। ফলে কপালেও পড়েছে চরম ভাঁজ। এযেন এক বোবা কান্নায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন খাদ্য যোদ্ধারা। আবার পরামর্শের জন্য মাঠে দেখা নেই কৃষি অফিসের লোকজনের। অবশ্য ঈদের ছুটি কাটাতে ব্যস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । আর জমিতে মাথায় হাত দিয়ে দু:শ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন চাষীরা।রবিবার দুপুরের দিকে তানোর পৌর এলাকার চাপড়া ঈদগাহ মাঠে আলু উত্তোলন করে বস্তা করছিলেন দীর্ঘ দিনের আলু চাষী ধানতৈড় গ্রামের ইউসুফ আলী।

তিনি জানান, গত বার আলুতে প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। প্রায় ১০০ বিঘার উপর আলু চাষ করা হয়েছিল গত মৌসুমে। এবারে কমিয়ে চাপড়া ও কালনা মাঠে ৬৮ বিঘা জমি টেন্ডার নিয়ে আলু রোপন করা হয়েছে। ঈদের আগের রাত, ঈদের দিবাগত রাত এবং তার কয়েকদিন আগে হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও ঠান্ডা ঝড়ো বাতাস হয়। বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারনে ল্যাদা বা কাটুই পোকার প্রচুর আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এপোকার আক্রমণে আলু খেয়ে গর্ত করে ফেলছে। একটা আলুতে একাধিক গর্ত হয়েছে। যার কারনে ক্রেতারা সেই আলু নিচ্ছে না। হিমাগারেও সেই আলু রাখা যাবেনা। বাদ দিতে হচ্ছে আলু। পোকা থেকে আলু রক্ষা করতে শেষ মুহুর্তে বিষ স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না । বিঘায় কীটনাশক ও শ্রমিক মিলে ২৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।

সেই হিসেবে ৬৮ বিঘায় ১৭ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। আলুর বর্তমান বাজার ১৪ টাকা কেজি। প্রতি বিঘায় লীজের জমিতে উত্তোলনের আগ মুহূর্তে খরচ হয়েছে ৫৫/৬০ হাজার টাকা করে। দাম হিসেবে টেন্ডারের জমিতে বিঘায় ২০/২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হবে। পোকার আক্রমণের কারনে বিঘায় ৪/৫ বস্তা আলু কম হবে।তার সাথে কথা বলতেই সেখানে উপস্থিত হন আরেক চাষী শাফি, তার বাড়ি গোকুল গ্রামে। সে আলু রোপন করেছেন চাপড়া মাঠে। তিনি জানান ৫ বিঘা জমিতে ল্যাদা পোকার আক্রমণ। পোকার আক্রমণের কারনে আলু নষ্ট হচ্ছে প্রচুর। প্রায় আলু গর্ত করে ফেলেছে।ইউসুফ আরো জানান, যাদের আলু মাঠে আছে সেখানেই পোকার আক্রমণ।

ধানতৈড় গ্রামের মতিনের ৫ বিঘা, মুর্শেদের ৮ বিঘা ও বকুলের ১৫ বিঘাতে ল্যাদা পোকার আক্রমণ প্রচুর।আলু চাষীরা জানান, কয়েকদিন ধরে রাতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস হচ্ছে। ঈদের দিবাগত রাতে দীর্ঘ সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও বাতাস হয়। ঘন্টা ব্যাপী বৃষ্টি ও বাতাস ছিল। কিন্তু তারপর থেকে বৃষ্টি ও বাতাস থেমে যায়। আর কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমিয়ে যেত। ২০ রমজানের পর থেকে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। মাঠে সিংহভাগ আলু পড়ে আছে। জমিতে পানি জমা হলে দুর্ভোগের শেষ থাকত না। বর্তমান বাজার অনুযায়ী নিজস্ব জমিতে যারা আলু চাষ করেছেন তাদের লোকসান গুনতে হবেনা।

কিন্তু যারা লীজ নিয়ে আলু চাষ করেছেন তাদের কে লোকসান গুনতে হবে। এবারে আলুর বস্তা নিয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেট শুরু হয়েছে। ৮০ থেকে ৯০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। আবার প্রায় প্রতি রাতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। যার কারনে দূ:শ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারা যাচ্ছে না। এত পরিমান আলু চাষ হয় বলেই অল্প দামে ভোক্তারা আকু কিনে খেতে পারছে। প্রতিটি কৃষি পণ্যের দাম তুলনা মুলুক ভালো হলেও আলুর দাম নেই। অন্তত উৎপাদন খরচ তুলতে পারলে চাষের আগ্রহ থাকে।

যেমন গতবার যে পরিমান আলু চাষ হয়েছিল এবারে তার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। আলুর গাছ তোলার পর থেকো ল্যাদা পোকার ব্যাপক আক্রমণ শুরএ হয়েছে। কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ীদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, আলুর গাছ তোলার পর এপোকার আক্রমণ শুরু হয়। এজন্য নির্দিষ্ট কীটনাশক প্রয়োগ করলে পোকার আক্রমণ থেকে আলু রক্ষা পাবে। অযথা যে কোন কীটনাশক প্রয়োগ করা সঠিল হবে। কৃষি অফিসের মাঠ কর্মী বা কৃষি পরিসেবা নম্বরে কল করে পরামর্শ নিতে পারেন আলু চাষীরা।

তবে খুব একটা বেশি আক্রমণ নাই। তিনি আরো জানান, ঈদের দিবাগত রাতে যে ভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল তাতে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কারন ভারি বর্ষন হলে বা জমিতে পানি জমিয়ে থাকলে দূর্ভোগের শেষ থাকত না। আবার ঈদের আগে শ্রমিক সংকট ছিল। অনেকে শ্রমিক সংকটের কারনে আলু উত্তোলন করতে পারেনি। অবশ্য বৃষ্টি তেমন না হওয়ার কারনে এবং জমিতে পানি না জমে থাকার কারনে আলু উত্তোলন চলমান রয়েছে। এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ১ হাজার হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হয়েছে।