তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট: দ্বিগুণ দামে ডিএপি বিক্রি, দিশেহারা চাষীরা
সোহানুল হক পারভেজ রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজশাহীর তানোরে ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে দ্বিগুণ দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিএডিসি ও বিসিআইসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার এবং খুচরা বালাইনাশক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে আলু উত্তোলনের পর ধান রোপণ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ‘খাদ্য যোদ্ধারা’।
সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার এই উৎসবে সাধারণ কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।কৃষকদের অভিযোগ, আলু তোলার পর জমিতে ধান রোপণের জন্য ডিএপি সারের প্রয়োজন হলেও বাজারে তা মিলছে না। কোনো দোকানে সরকারি মূল্যে সার চাইলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘মজুত নেই’। অথচ পর্দার আড়ালে ১০৫০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান,
৫ কেজি ডিএপি সার কিনতে তাঁর ১৮০ টাকা গুনতে হয়েছে, যা সরকারি মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বেশি। রশিদ চাইলে ব্যবসায়ীরা নানা তালবাহানা করছেন অথবা রশিদ দিলেও তাতে সরকারি মূল্যই লিখে রাখছেন। তেলের সংকট ও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পর সারের এই চড়া দাম কৃষকদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সার ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সময়ে ডিএপি সারের বরাদ্দ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তবে উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, ডিএপি সারের কোনো ঘাটতি নেই। কোনো কৃষক এখন পর্যন্ত বাড়তি দামের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা মৌখিকভাবে অবহিত করেননি। তিনি আরও জানান, আগামী মৌসুমের জন্য কেউ সার অবৈধ মজুত করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আলু উত্তোলনের পর ধান রোপণের সময় জমিতে ডিএপি সারের তেমন প্রয়োজন হয় না।
সামান্য ইউরিয়া ও পটাশ ব্যবহার করলেই চলে। কিন্তু কৃষকরা না বুঝে ডিএপি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট। তানোরের সাত ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ৯ জন বিসিআইসি এবং ২২ জন বিএডিসি ডিলার থাকলেও তদারকির অভাবে সারের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন প্রান্তিক চাষীরা।








