“অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না” — যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে পুলিশ সুপারের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সমগ্র রাঙ্গুনিয়া জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীরা খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে দাঁড়ায়।
হত্যাকাণ্ড এবং এর জেরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশের উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ও কঠোর নির্দেশনা দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ সুপার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়ে বলেন—অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নতুন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ তৎপরতা ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে নৃশংসভাবে খুনের প্রতিবাদে এবং খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাঙ্গুনিয়ার রাজপথ। স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতা এলাকায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়।
রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে একাধিক বিশেষ টিমের অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।








