যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে সুপ্রিম কোর্টের না
মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ওই নির্বাহী আদেশ কার্যকর হচ্ছে না।
ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা–বাবার কেউ যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) না হন, তাহলে ওই শিশুকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এই আদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের শরণাপন্ন হন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, “নাগরিকত্ব তখনও এবং এখনও আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার মৌলিক অধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এই ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য সেই সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে এবং আদালত আজও সেই নীতিকেই সমুন্নত রাখছে।”
রায়ে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রণীত সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রথম দিনেই এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
এটি চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার ঘটনা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ঘোষিত ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের উদ্যোগও আদালতের রায়ে স্থগিত হয়ে যায়।
ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষে রায়
তবে একই দিনে দেওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্বস্তি পেয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে, অঙ্গরাজ্যগুলো স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত বা নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এই রায় দুটি পৃথক মামলার শুনানির পর দেওয়া হয়। মামলাগুলোতে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। ওই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিষয়ক সিদ্ধান্তকে নিজের প্রশাসনের জন্য “বড় জয়” বলে উল্লেখ করেন।
একই দিনে দেওয়া দুটি পৃথক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেছে, অন্যদিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। ফলে অভিবাসন ও সামাজিক নীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আদালতের অবস্থান নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।








