অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সমাজের বোঝা নয়-ইউএনও আরিফুল ইসলাম
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেছেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। তারা আমাদের মতোই মানুষ, শুধু একটু ভিন্নভাবে। আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সক্ষমতা খুঁজে বের করা।
সোমবার (৬জুলাই) দুপুরে তিনি ময়মনসিংহের অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রে আয়োজিত নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস (এনডিডি) আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সমাজে তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরার লক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস (এনডিডি) আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের নিয়ে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় কেন্দ্রের এনডিডি শিশুরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অংশগ্রহণ করে। তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা চমৎকার সব ছবিতে ফুটে ওঠে প্রকৃতি, বাংলাদেশ ও তাদের নিজস্ব ভাবনার এক রঙিন জগত। মুখে কথা বলতে না পারা কিংবা শারীরিক-মানসিক সীমাবদ্ধতা থাকা অনেক শিশুর তুলির ছোঁয়ায় ফুটে ওঠা অসাধারণ শৈল্পিক রূপ দেখে উপস্থিত অতিথিরা মুগ্ধ হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, “এনডিডি বা অটিজম আক্রান্ত শিশুদের আমরা বুঝা মনে করি কিন্তুু সঠিক সুযোগ ও ভালোবাসা পেলে তারাও এক একজন অনন্য সম্পদে পরিণত হতে পারে। আজকের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তাদের আঁকা ছবি প্রমাণ করে যে, তাদের ভেতরের জগতটা কতটা সমৃদ্ধ। আমাদের কেবল তাদের এই প্রতিভাকে বিকশিত করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।” তিনি এই বিশেষ শিশুদের মূলধারার সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল শিশুর হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। পুরস্কার পেয়ে শিশুদের মুখের অনাবিল হাসি এবং আনন্দঘন মুহূর্ত অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আসাদুজ্জামান, অটিজম ও প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের সহকারি পরিচালক মোঃ ছানোয়ার হোসেনসহ কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অভিভাবকরা এই ধরনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নিয়মিত এমন আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়ে একজন অভিভাবক বলেন,ইউএনও মহোদয় শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি একজন মানুষের মতো মানুষ। তার এই সহানুভূতিশীল আচরণ আমাদের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। তাঁকে নিয়ে আমার মনে অনেক আবেগ, অনেক কৃতজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে ইউএনও বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান তারা কেউ আমাদের বোঝা নয়; বরং তাদের অনেকের মাঝে রয়েছে অভাবনীয় প্রতিভা। আমরা যদি তাদের পাশে থাকি, তাদের বিকাশে সহায়তা করি—তবে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”তিনি আরও বলেন, “অটিজম সম্পর্কে আমাদের সমাজে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের অটিজম ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।








