কুষ্টিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ: হাসপাতালে ভর্তি, এলাকায় চাঞ্চল্য
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি খালপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ লাবনী আক্তারকে মারধর, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত লাবনী আক্তার বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত গৃহবধূর শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪–৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই ২০২৬ সকাল প্রায় ১১টার দিকে বাড়িতে নির্মাণকাজ চলাকালে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝুনু ও শাকিলের নেতৃত্বে কয়েকজন লাবনী আক্তারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় এবং পেটে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এছাড়া লোহার রড ও ইট দিয়ে মারধর, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা, কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় লাবনী আক্তারের গলা থেকে প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ঝুনু ও শাকিলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুনু ও শাকিলের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ঝুনু ও শাকিলের এই প্রভাবের উৎস কোথায় এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে।








