ঢাকা | জুলাই ১৩, ২০২৬ - ৯:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কুয়েত স্টেশনে অতিরিক্ত ব্যাগেজ অনিয়মের অভিযোগ: তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, July 13, 2026 - 2:23 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 24 বার

মোঃ নাসির, বিশেষ প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত স্টেশনে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত অনিয়ম ও সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য উঠে এলেও দায়ী ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। বরং ‘তদন্তের সীমাবদ্ধতা’র কথা উল্লেখ করে দায় নির্ধারণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এ ধরনের তদন্ত ভবিষ্যতে বিদেশি স্টেশনগুলোতে অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষার বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

জানা গেছে, কুয়েত থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যাগেজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের ডিজিএম মেজর ফারহান তানভীর একটি আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করেন।

পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে জমা দেওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েত থেকে আসা বিজি-৩৪৪ ফ্লাইটের ১৪ জন যাত্রীর লাগেজ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১২ জন যাত্রীর ব্যাগেজ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ওজনের ছিল। তবে অতিরিক্ত ব্যাগেজের বিপরীতে কোনো সরকারি ফি আদায়ের তথ্য বা বৈধ রসিদ পাওয়া যায়নি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যাগেজ বাবদ আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথিতে এ ধরনের রাজস্ব আদায়ের কোনো তথ্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কুয়েত স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাজাহানের পাশাপাশি তার স্ত্রী শামিমা পারভীনকেও গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে একই স্টেশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বিদেশি স্টেশনে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে দায়িত্ব পালন নিয়েও অভ্যন্তরীণভাবে প্রশ্ন উঠেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েত স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাজাহান প্রথমে নামাজে যাওয়ার কথা বলে পরে ফোনে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।