জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি:ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) দিয়ে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন শুল্কের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডা, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশ রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশকারী পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, এটি শুধু বাণিজ্য নয়, মানবাধিকার সুরক্ষার অংশও।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলসহ কিছু দেশ শুল্ক আরোপকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল, আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও ভোক্তা মূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।








