যুক্তরাষ্ট্রে ICE-এর ধরপাকড় তীব্র: জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে ১,৪০০-এর বেশি গ্রেপ্তার
মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি:প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে Immigration and Customs Enforcement (ICE)-এর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই মাসে ICE প্রতিদিন গড়ে ১,৪০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করছে—যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৈনিক গড়।
অভিবাসনবিষয়ক এই ব্যাপক অভিযানের পাশাপাশি ICE হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। Human Rights Watch-এর হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ICE হেফাজতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০০৩ সালে ICE প্রতিষ্ঠার পর এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। (Human Rights Watch)
অন্যদিকে, Axios-এর জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৯ জন অভিবাসী ICE হেফাজতে মারা গেছেন। এসব মৃত্যুর কারণ ও আটককেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছে।
ICE-এর আটকসংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। TRAC-এর ১১ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ICE হেফাজতে ৬৫,৭৬৫ জন ছিলেন; তাঁদের মধ্যে ৭০.৬ শতাংশের কোনো অপরাধের সাজা ছিল না। তবে অপরাধের সাজা না থাকা মানেই সবার অভিবাসন-আইনি পরিস্থিতি একই নয়—অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন মামলা বা আদেশ থাকতে পারে।
এদিকে আজকের এক Reuters প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত Office of Refugee Resettlement (ORR) থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ICE ১২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে অভিবাসী শিশু ও তাদের স্পনসরও ছিলেন। এ নিয়ে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য অভিবাসন enforcement-এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী এবং বিশেষ করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের অংশ। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে অপরাধে জড়িত নন এমন মানুষও আটক হচ্ছেন এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন enforcement এখন রাজনৈতিক ও মানবিক—দুই দিক থেকেই বড় বিতর্কের বিষয়। সামনে প্রশ্ন হচ্ছে, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি অধিকার, চিকিৎসা এবং মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।








