ঢাকা | আগস্ট ১২, ২০২৬ - ৫:০০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পঞ্চগড়ে SGPT রিপোর্টে গড়মিল, ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সিভিল সার্জন এর কাছে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, August 11, 2026 - 2:21 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 19 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে পরিচালিত একটি প্যাথলজি সেন্টারের বিরুদ্ধে লিভার পরীক্ষার ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই রোগীর SGPT পরীক্ষা সরকারি হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে করানো হলে রিপোর্টে ব্যাপক গড়মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ এনে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড় – তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে SGPT পরীক্ষা করান। সেখানে তার SGPT মাত্রা ১২৭ U/L পাওয়া যায়। লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

একই দিন সাইদুজ্জামান মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে গিয়ে পুনরায় SGPT পরীক্ষা করান। সেখানে তার রিপোর্টে SGPT মাত্রা পাওয়া যায় ২৬.৭ U/L। দুটি রিপোর্টে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় মেডিকেয়ারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় তার।

পরে সঠিক অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শে ১০ আগস্ট সোমবার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বার SGPT পরীক্ষা করান সাইদুজ্জামান। সেখানে তার SGPT মাত্রা পাওয়া যায় ১২১ U/L, যা আগের মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালের রিপোর্টের কাছাকাছি।

তিন প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষার ফলাফলে এমন বড় পার্থক্য পাওয়ার ঘটনায় মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাইদুজ্জামান রেজা।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের পরিচয় শুনে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। পরে তিনি মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে কোনো ভুল নেই বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিভারে প্রদাহ শনাক্ত করতে বর্তমানে ফুল অটোমেটিক ও সেমি অটোমেটিক মেশিন ব্যবহার করা হয়। তবে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটোমেটিক মেশিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা যায় ।

আরও জানা গেছে, অভিযোগকারী রোগী সাইদুজ্জামান রেজার পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবং মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যক্তি, আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট।

একই টেকনোলজিস্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে একই রোগীর পরীক্ষায় দুই ধরনের রিপোর্ট দেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট হিসেবে দেওয়া রিপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় তাকে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারগুলোতে আবুল বাশারের একক আধিপত্য রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগকারী রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ তিন প্রতিষ্ঠানে করা SGPT পরীক্ষার রিপোর্টের মধ্যে মেডিকেয়ার সেন্টারের রিপোর্টটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।”