বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা, ‘আমরা আক্রান্ত হয়েছি’: কার্নি
মো. নাসির, নিউ জার্সি প্রতিনিধি :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বাণিজ্য ইস্যুতে তার দেশ এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ রয়েছে।
কার্নি বলেন, “আক্রমণের শিকার হলে আপনি যুদ্ধে আছেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।” তিনি জানান, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। এর আওতায় রয়েছে বিয়ার, পনির, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য। নতুন শুল্ক প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় আমদানিকে প্রভাবিত করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবাবে কানাডা ‘ডলার ফর ডলার’ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি সরঞ্জাম, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কার্নির অভিযোগ, বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার আগে ওয়াশিংটন শেষ মুহূর্তে কানাডার সার্বভৌমত্ব, কুইবেকের ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা অটোয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তিনি বলেন, কানাডা কোনো ‘খারাপ চুক্তি’ মেনে নেবে না।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।








