ঢাকা | আগস্ট ২৩, ২০২৬ - ৪:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ইবি-৩ ভিসার নামে চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রলোভন, সতর্ক থাকার পরামর্শ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, August 22, 2026 - 4:58 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 33 বার
মো. নাসির, নিউ জার্সি প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী চাকরি ও গ্রিন কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইবি-৩ (EB-3) ভিসার নামে বিভিন্ন ধরনের অফার প্রচার করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় বেতন, নিশ্চিত চাকরি এবং দ্রুত গ্রিন কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে এসব অফারের মাধ্যমে আগ্রহীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ কারণে অফার গ্রহণের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইবি-৩ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈধ কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণি। এর আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য কর্মীরা আবেদন করতে পারেন। তবে ইবি-৩ ভিসা কোনো ব্যক্তির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত করে না।
ইবি-৩ প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার ভূমিকা, শ্রমবাজার যাচাই, শ্রম বিভাগের অনুমোদন এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দ্রুত গ্রিন কার্ড কিংবা নিশ্চিত চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।
গ্রিন কার্ড থাকলেও ঝুঁকি থাকতে পারে অনেকের ধারণা, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কোনো ঝুঁকি থাকে না। বাস্তবে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন বা অন্যান্য আইনি কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধেও অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে কোনো গ্রিন কার্ডধারীকে শুধু চাকরি না থাকা বা বেকার থাকার কারণে বহিষ্কার করা হয় না; প্রতিটি ঘটনা তার নিজস্ব তথ্য ও আইনি পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কোনো গ্রিন কার্ডধারীকে আটক বা অপসারণের প্রক্রিয়ায় নিলে দ্রুত যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। গ্রিন কার্ডধারীরা নিজেদের আইনগত অধিকার ও অপসারণের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে অবহিত না হয়ে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
চাকরির বাজারেও প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা রয়েছে এবং অনেক মানুষ কাজের সন্ধানে রয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশটির বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৯ লাখ। একই সময়ে দেশটির নন-ফার্ম খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে।[bls]
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যাদের বৈধ ও স্থায়ী চাকরি রয়েছে, তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন। ফলে চাকরির আশায় থাকা ব্যক্তিরা সহজেই ‘নিশ্চিত চাকরি’ বা ‘দ্রুত গ্রিন কার্ড’-এর মতো প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনের শিকার হতে পারেন।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘১০০ শতাংশ গ্রিন কার্ড’, ‘নিশ্চিত চাকরি’ কিংবা ‘অল্প সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ’—এ ধরনের প্রচারণা প্রতারণার ইঙ্গিত হতে পারে। ভুয়া নিয়োগকর্তা, অস্তিত্বহীন চাকরি, জাল নথি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঝুঁকি এ ধরনের অফারে রয়েছে।
আবেদনকারীদের কোনো অর্থ দেওয়ার আগে—
• সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার অস্তিত্ব ও বৈধতা যাচাই করতে হবে।
• চাকরির দায়িত্ব, বেতন, কর্মস্থল ও চুক্তির শর্ত লিখিতভাবে নিতে হবে।
• নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
• অভিবাসন আইনজীবী বা এজেন্সির লাইসেন্স ও বৈধতা যাচাই করতে হবে।
• শ্রম বিভাগ ও USCIS-এর সরকারি ওয়েবসাইটে মামলার তথ্য যাচাই করতে হবে।
• ‘নিশ্চিত গ্রিন কার্ড’ বা ‘গ্যারান্টিযুক্ত ভিসা’—এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো বিজ্ঞাপন বা ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে ইবি-৩ ভিসার জন্য অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। সরকারি নথিপত্র, নিয়োগকর্তার তথ্য এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শের মাধ্যমে যাচাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।