বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাণীকল্যাণ এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনে অনন্ত আম্বানির কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তার প্রতিষ্ঠিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারকেন্দ্র ‘ভানতারা’র কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নিয়োগের খবর প্রকাশের পর পরিবেশবিদ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় লেখক ও পরিবেশবিষয়ক চিন্তাবিদ রামচন্দ্র গুহ এই সিদ্ধান্তকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যাদের এ ধরনের সম্মান দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের শাখা থেকেও নিয়োগ নিয়ে আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। শিক্ষক-কর্মীদের কেউ কেউ ভানতারার পরিবেশগত কর্মকাণ্ড ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী পর্যায়ে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি গুজরাটে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা ভানতারা পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিপন্ন ও আহত প্রাণীদের উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সেবার জন্য কাজ করে।
তবে ভানতারায় বিভিন্ন দেশ থেকে বিপন্ন প্রাণী আনার পদ্ধতি নিয়ে আগে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালে জার্মান সংবাদপত্র Süddeutsche Zeitung-এর এক অনুসন্ধান এবং পরবর্তী সময়ে CITES-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণেও প্রাণী আমদানির কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। তবে আম্বানি পরিবার ও ভানতারা কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী পাচার বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে বলেছে, অনন্ত আম্বানির সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণীকল্যাণ ও পরিবেশগত উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভানতারার কার্যক্রম তাদের সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
অনন্ত আম্বানির এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্মানের যোগ্যতা, পরিবেশ সংরক্ষণে তার ভূমিকা এবং ভানতারার কার্যক্রম মূল্যায়নের পদ্ধতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।