ময়মনসিংহে “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ:ময়মনসিংহে “গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এর সহযোগিতায় এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ময়মনসিংহ উপপরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত) উম্মে হাবীবা মীরা এর সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভার প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প, ময়মনসিংহের জেলা ব্যবস্হাপক মো : আব্দুল্লাহ আল- মুজাহিদ খান। এসময়ে সমন্বয় সভায় বক্তব্যে রাখেন, স্থানীয় সরকার, ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক, সোনিয়া হোসেন জিসান,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের পরিচালক নাজনীন সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ডিআরটি সদস্য, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়,এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার/কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ বিভিন্ন অংশীজনরা।
সভায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়ে বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত এবং সুলভ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা তুলে ধরাসহ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক করতে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা। সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালতের ক্ষমতায়ন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোরও আহবানও জানান তারা।
স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক জানান- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাম আদালতের তথ্য প্রচার করলে অথবা এ সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি করে তা প্রচার করলে ব্যাপক মানুষের নিকট পৌছানো সম্ভব হবে এবং তারা গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার/কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ সকলকে গ্রাম আদালতের সেবা সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করার জন্য অনুরোধ করেন।
সভায় জানানো হয়-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি ও
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বিচারিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষের বিশেষ করে নারী, দরিদ্র, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য পূরনের জন্য প্রকল্পটিতে স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করে গ্রাম আদালতের আইনি সেবা প্রদান কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী জনগণ, বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীকে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয়করণের ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো স্থানীয় জনগন বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে যথাযথ ধারনা না থাকা। সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সার্বিক জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সররকারী- বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম, স্থানীয় ক্যাবল অপারেটর, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সিভিল সোসাইটির অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত উদ্যোগ। আর এ লক্ষ্যে প্রয়োজন জেলা-
উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠনসমূহ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মএলাকায় একটি সুসংগঠিত ও ধাৰাবাহিক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম যাতে করে স্থানীয় জনগণ বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বাচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে সে লক্ষেই বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।








