ঢাকা | অক্টোবর ৬, ২০২৬ - ১০:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

দালালের দৌরাত্ম্যে পুড়ছে সৌদি শ্রমবাজার: প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার এখনই নিশ্চিত করতে হবে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 6, 2026 - 3:39 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 17 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, প্রতারণা ও অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে কর্মরত কিংবা সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা হাজারো বাংলাদেশি কর্মীর জীবনের কঠিন বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে।

ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়া, আকামা ও কফিল-সংক্রান্ত জটিলতা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা—এসব সমস্যা অনেক প্রবাসী শ্রমিকের জীবনে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। একজন কর্মী পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে গিয়ে যদি প্রতিশ্রুত চাকরি না পান কিংবা দালাল ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার হন, তাহলে তার সামনে ফিরে আসার পথও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে নারী কর্মীদের বিদেশে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ, অনিরাপদ পরিবেশ এবং চুক্তির সঙ্গে বাস্তব কাজের অসঙ্গতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা এবং অবৈধ উপায়ে শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগগুলোও গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং লাখো পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখে। অথচ সেই শ্রমিকরাই বিদেশে গিয়ে যদি প্রতারণা, হয়রানি ও অধিকারবঞ্চনার শিকার হন, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়—এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

তাই এখন প্রয়োজন কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ। দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে। চাকরি, বেতন, কর্মঘণ্টা, থাকার ব্যবস্থা ও নিয়োগের শর্ত যাচাই না করে কোনো কর্মীকে বিদেশে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাংবাদিক মোহাম্মদ ফিরোজকে অভিনন্দন

সৌদি আরব থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ ফিরোজ যে সাহসিকতার সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্ট, প্রতারণা, অনিয়ম ও অধিকারবঞ্চনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন, তার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।

একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব শুধু ঘটনা তুলে ধরা নয়; অনেক সময় তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে নীরব মানুষের কণ্ঠস্বরও প্রকাশ পায়। ‘দালালের দৌরাত্ম্যে পুড়ছে সৌদি শ্রমবাজার’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি সেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

প্রবাসীদের নীরব কান্না, শ্রমবাজারের অনিয়ম এবং দালালচক্রের অপতৎপরতা নিয়ে আরও অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। আশা করি, এই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং প্রতারণার শিকার অসহায় প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী শ্রমিক কোনো পণ্য নয়—তারা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রত্যেকেরই নিরাপদ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের অধিকার রয়েছে।