ঢাকা | অক্টোবর ৬, ২০২৬ - ১০:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

উড়ন্ত ফুলের’ গল্প ক্যামেরায়

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 6, 2026 - 3:36 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 32 বার
উড়ন্ত ফুলের’ গল্প ক্যামেরায়

আনসার উদ্দিন খান পাঠানের পাখির ছবিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা

প্রকৃতির সৌন্দর্য থেকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা—‘রিভার্স অ্যান্ড বার্ডস’ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে পাখি ও নদীর অনন্য গল্প

প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
৫ অক্টোবর ২০২৬

পাখির ডানায় রঙের খেলা, নদীর বুকে প্রকৃতির ছন্দ আর বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন—ক্যামেরার ফ্রেমে এসব দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলেছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠান।

নদী ও পাখির সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ‘রিভার্স অ্যান্ড বার্ডস’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোতে শুধু পাখির বাহারি রূপই নয়, তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও ফুটে উঠেছে।

শখ থেকে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় আশির দশকের শেষ দিকে শখের বসে ফটোগ্রাফি শুরু করেন আনসার উদ্দিন খান পাঠান। শুরুতে বিভিন্ন বিষয়ের ছবি তুললেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তাঁর ক্যামেরার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে বন্যপ্রাণী ও পাখি।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ প্রজাতির পাখির ছবি ধারণ করেছেন তিনি। রঙিন পাখিদের তিনি মনে করেন ‘উড়ন্ত ফুল’—যাদের সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরে রাখা তাঁর কাছে এক বিশেষ আনন্দের বিষয়।

পাখির রঙিন পালক, উড়ে চলার মুহূর্ত, স্বাভাবিক আচরণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক তাঁর আলোকচিত্রে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

ছবির পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণ

আনসার উদ্দিন খান পাঠানের কাজ শুধু ক্যামেরার ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি নিজেও উদ্যোগ নিয়েছেন।

নেত্রকোনায় তাঁর নিজ গ্রামের এলাকায় পরিচালনা করছেন দুটি পাখিবান্ধব সংরক্ষণ প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উদ্ভিদসমৃদ্ধ একটি ছোট বনভূমি এবং জলজ উদ্ভিদসমৃদ্ধ একটি জলাভূমি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পাখি, অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও স্থানীয় উদ্ভিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।‘উড়ন্ত ফুল’ রক্ষার আহ্বান

আনসার উদ্দিন খান পাঠানের কাছে পাখির ছবি তোলা কেবল শখ নয়; এটি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম।

তাঁর ক্যামেরায় বন্দি প্রতিটি ছবি যেন একটি বার্তা দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সেই প্রকৃতিকে রক্ষা করাও মানুষের দায়িত্ব।

‘রিভার্স অ্যান্ড বার্ডস’ তাই শুধু একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়; এটি নদী, পাখি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এক নান্দনিক গল্প। ছবির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান—পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে মানুষ।