ঢাকা | অক্টোবর ৬, ২০২৬ - ১০:৫৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাব

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 6, 2026 - 3:53 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 28 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র:
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতিকে আরও কার্যকর, পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক ও আস্থাশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সরকারের সাবেক সচিব মুহাম্মদ আজিজুল হক।
ডেইলি অবজারভার-এ প্রকাশিত তাঁর “India’s ‘Neighbourhood First’ Policy vis-à-vis Bangladesh: Some Propositions” শীর্ষক নিবন্ধে মুহাম্মদ আজিজুল হক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায্যতা এবং দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এমন হওয়া উচিত, যাতে উভয় দেশ ন্যায্যভাবে উপকৃত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক অঙ্গীকার রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মুহাম্মদ আজিজুল হক তাঁর নিবন্ধে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ এবং কথিত ‘পুশ-ইন’ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব
মুহাম্মদ আজিজুল হক ভারতের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ধর্ম, বর্ণ বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। ভারতের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হলে তা দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা
নিবন্ধে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন সাবেক এই কূটনীতিক। তিনি মনে করেন, জোরপূর্বক রাজনৈতিক একীকরণের পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ অনুসরণ করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক (SAARC) পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মুহাম্মদ আজিজুল হক। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা সার্ক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
২০১৬ সালের পর সার্কের শীর্ষ সম্মেলন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভারত উদ্যোগ নিলে তা ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।
পঞ্চশীল নীতির বাস্তব প্রয়োগ
মুহাম্মদ আজিজুল হক ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত পঞ্চশীল নীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান, পারস্পরিক অনাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান—এই পাঁচ নীতির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
তাঁর মতে, এসব নীতি বাস্তবে অনুসরণ করা হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
মুহাম্মদ আজিজুল হকের নিবন্ধের মূল বক্তব্য হলো—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায্যতা, জনগণের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, এমন সম্পর্ক দুই দেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।