ঢাকা | অক্টোবর ৯, ২০২৬ - ৭:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, October 9, 2026 - 12:35 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 2 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অভিযোগে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মার্কিন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

মার্কিন শ্রম দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি ছাড়াও কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে নতুন আবেদন গ্রহণ ও অপেক্ষমাণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ থাকবে। এ ব্যবস্থা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথকে প্রভাবিত করবে।

মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফট গত বছর প্রায় ৬ হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করলেও ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ড পেয়েছিল বলে প্রশাসন উল্লেখ করেছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের প্রত্যেকের জায়গায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।

কোন কর্মসূচির আবেদন স্থগিত?

এ পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে ‘পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন’ বা PERM কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অনেক বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান।

সাধারণত নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ও প্রস্তুত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

সরকারের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে; অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বিদেশি কর্মীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

গ্রিন কার্ডের আবেদন স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মী এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।

তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব বিদেশি কর্মীর ভিসা বাতিল হয়ে গেছে কিংবা ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ এবং PERM-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন—দুটি পৃথক বিষয়।

প্রযুক্তি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে তদন্তের অগ্রগতি, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর।