স্কুলে ঢোকার আগে ট্রাকে গুলি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর ১টার কিছু আগে লাল রঙের টয়োটা টাকোমা পিকআপ ট্রাকের চালক স্কুলের পার্কিং এলাকায় ওই কিশোরকে অস্ত্র হাতে দেখতে পান। চালক তাকে প্রশ্ন করলে কিশোরটি ট্রাক লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। এতে গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে যায় এবং গাড়ির গায়ে একাধিক গুলির চিহ্ন তৈরি হয়।
এরপর সন্দেহভাজন কিশোরটি অস্ত্র নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তালাবদ্ধ দরজা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সে জোরপূর্বক ভবনের ভেতরে ঢোকে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল কিশোরটির মায়ের কেনা পাম্প-অ্যাকশন শটগান। তবে মায়ের অনুমতি নিয়ে সে অস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত তিন শিশুর বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত তিন শিশুর বয়স ছিল যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১১ বছর। এ ছাড়া একজন শিক্ষকও প্রাণ হারিয়েছেন। আহত সাত বছর বয়সী এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেন্ড পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানান, প্রথম জরুরি ফোনকল পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তবে ততক্ষণে হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গেছে।
হামলাকারীকে থামান এক প্রত্যক্ষদর্শী
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক স্থানীয় ব্যক্তি কিশোরটিকে অস্ত্র হাতে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখে তার পিছু নেন এবং ভবনের ভেতরে তাকে প্রতিরোধ করেন। ওই ব্যক্তির গুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়।
ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, আরও প্রাণহানি ঠেকাতে ওই ব্যক্তির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তদন্ত চলছে, স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ
কিশোরটি আগে ওই স্কুলে পড়ত কি না, নিহত বা আহতদের সঙ্গে তার কোনো পরিচয় ছিল কি না এবং হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ, ওরেগন স্টেট পুলিশ এবং এফবিআই সহায়তা করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেন্ড-লা পাইন স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সব স্কুলে শুক্রবারের ক্লাস ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা আবারও শিশুদের নিরাপত্তা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো ঠেকানোর ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি স্কুলে নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণের কথা যেসব শিশুর, তাদের এমন সহিংসতার শিকার হওয়া পুরো কমিউনিটির জন্য গভীর শোকের ঘটনা।