সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে একাধিক তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর আগে এই তৎপরতা চালানো হয়। তবে ডিএনএ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে কি না, কিংবা সংগৃহীত কোনো নমুনা পরীক্ষার ফল কী—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলহান ওমরের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্র ঘিরে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ডিএনএ-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে ১২ অক্টোবর ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে ফেডারেল এজেন্টরা তল্লাশি চালান। এ ঘটনায় তাঁর ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
কী নিয়ে তদন্ত?
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন বলে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে অতীতে ওঠা কিছু অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ওমর অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন
নিউজ নেশনের প্রতিবেদনে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর শান উ-এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ কীভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ট্রেসি ওয়াল্ডার বলেছেন, তদন্তকারীরা ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকে জৈবিক নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জনসাধারণের জন্য ফেলে রাখা আবর্জনা থেকে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু পরিস্থিতিতে আলাদা তল্লাশি পরোয়ানা প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট তদন্তে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, তা পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।
ওমরের প্রতিক্রিয়া
ইলহান ওমর চলমান তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
এখন পর্যন্ত ডিএনএ সংগ্রহের অভিযোগ, তদন্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়ে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তের ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
