পরীক্ষায় বেঁচে থাকার সময় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ
গবেষণায় দেখা গেছে, আগে চিকিৎসা নেওয়া এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া অগ্ন্যাশয়ের অ্যাডেনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত যেসব রোগী নতুন ওষুধটি গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যম সামগ্রিক বেঁচে থাকার সময় ছিল ১৩ দশমিক ২ মাস। অন্যদিকে, প্রচলিত কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৬ দশমিক ৭ মাস।
প্রায় ৫০০ রোগীর ওপর পরিচালিত তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে এই পার্থক্য উঠে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, কারণ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন।
কীভাবে কাজ করে নতুন ওষুধটি?
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে RAS নামের একটি প্রোটিনের অস্বাভাবিক সংকেত ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তারে ভূমিকা রাখে। নতুন ওষুধটি মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট, যা RAS প্রোটিনের একাধিক ধরনকে লক্ষ্য করে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তাকারী সংকেত বাধাগ্রস্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন ওষুধটির অনুমোদন তাই অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এটি এখনো ক্যানসার নিরাময়ের নিশ্চয়তা নয়
চিকিৎসকেরা বলছেন, নতুন ওষুধটি আশাব্যঞ্জক হলেও একে ক্যানসারের সম্পূর্ণ নিরাময় হিসেবে দেখা যাবে না। সময়ের সঙ্গে ক্যানসার কোষ ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এ কারণে আরও কার্যকর চিকিৎসা, একাধিক ওষুধের সমন্বয় এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়। পেটে বা পিঠে ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা জন্ডিস দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং যাঁদের পরিবারে এই ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা নতুন করে পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার আপেক্ষিক হার প্রায় ১৩ শতাংশ। নতুন ওষুধটি উন্নত পর্যায়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হলেও, দীর্ঘমেয়াদে মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও আরও কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি।