আবারো বিতর্কিত রাজশাহী কাটাখালী থানার ওসি জিল্লুর
লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ দেশের বিভিন্ন এলাকার ওসিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অনেক পুরানো। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, এজন্য আছে কমপ্লেইন সেল। সাবেক পুলিশ প্রধান বলছেন, অভিযোগগুলো গতানুগতিকভাবে দেখলে চলবে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তরকে আরো কঠোর হতে হবে।
মুলত রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্মানিত পুলিশ কমিশনারবৃন্দের দ্রুত বদলীর কারনে অনেকেই অতি পুরোনো পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে নতুন করে সম্যক ধারনা পেতে একটু সময় লেগেই যায়।তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদানের পর পরেই যুগান্তকারী পদক্ষেপের নজির রেখেছেন অসংখ্যা। সেকেলে চিন্তা ধারা ত্যাগ করে পরিবর্তন এনেছেন আধুনিক পুলিশ বাহিনী গঠনের। জন্তা ও পুলিশকে শিখিয়েছেন ভ্রতৃত্বের বন্ধন আবদ্ধ করার। তাই তো রাজশাহীর সুশীল সমাজ চির কৃতজ্ঞ থাকবে এই ব্যাতিক্রম পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের কাছে ।
তবে এই গৌরবগুলোকে ধুলোয় মিলিয়ে দিতে চাইছেন এক ধরনের অসাধু পুলিশ কর্তা। পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, এই সকল পুলিশ সদস্য না ভাল পুলিশ হতে পারে, না জনগনের কাতারে এসে মিশতে পারে । এক কথায় বিশ্ববিখ্যাত কবি ও দার্শনিক শেখ সাদীর ভাষায় তু না ঘারকা বান সাকা, না বাহার কা।
এদিকে রাজশাহী কাটাখালী থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আবারো আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য রাজশাহীর কম বেশী ২/৩ থানাতেও তিনি কম আলোচিত বা সমালোচিত হননি। এর নজির রয়েছে অহরহ।
ওসি জিল্লুর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমানিত অভিযোগ-১
কাটাখালি পৌরসভা থেকে এবার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু শামা জানান – সম্প্রতি রাজশাহী কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুর রহমান বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন । ইতিমধ্যে তিনি গত মাসে আমাদের পরিবারের সকল সদস্যকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ।
যদিও ওই মামলায় মারামারি দেখানো হয়েছে তদুপরি ওই মামলা এবং মারামারির সময় আমরা কেউই রাজশাহীতে উপস্থিত ছিলাম না। বর্তমানে আমরা ওই মামলায় জামিনে আছি। ইতিমধ্যে রাজশাহী পবা নির্বাচন কার্যালয় থেকে আমার প্রার্থিতা বাতিল করলে আমি হাইকোর্ট থেকে রিটের মাধ্যমে আমার প্রার্থিতা ফিরে পাই । কিন্তু প্রার্থিতা ফিরে পাবার পর থেকেই আমিসহ আমার সমর্থক গোষ্ঠীর উপর ওসি জিল্লুর রহমান বিভিন্নভানে হয়রানী ও নির্যাতন করে আসছেন।
এর মধ্যেই গত ২১শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজশাহী কাটাখালী থানার ৩ পিকআপ পুলিশের ভ্যান আমার বাসায় আসে তল্লাশি চালানোর জন্য।
পুলিশ আমাকে দরজা খোলার জন্য বার বার চাপ দিতে থাকে কিন্তু যেহেতু রাত তিনটা বাজে সেহেতু আমি আমার বাসার দরজা না খুলে বিষয়টি মোবাইলে আমার আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার প্রতিবেশীদের অবগত করি । সেই সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসার জন্য অনুরোধ জানাই । এ সময় আমার আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার প্রতিবেশীরা ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকও আমার বাসার সামনে আসেন।
এ সময় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজশাহী কাটাখালী থানার পুলিশের ৩ পিকাপ ভ্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের সামনে আমি পুলিশের ভ্যানে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বলি আপনারা আমার বাসা তল্লাশি করতে চেয়েছিলেন এখন যেহেতু এলাকার লোকজন উপস্থিত আছে বিধায় আমার বাসা তল্লাশী করতে পারেন। কিন্তু এ কথা বলা মাত্রই তারা কোন কথা না বলে ৩ পিক আপ ভ্যান নিয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যার ভিডিও অডিও ও ছবি স্থানীয় সাংবাদিকরা নিজেরাই ক্যামেরাবন্দি করেছেন।
অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের বিশ্লেষণ:
একটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম কাটাখালী থানার ওসি জিল্লুর বিরুদ্ধে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশ করলেও তা আমলে নেননি কর্তিঋপক্ষ। বরং এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জিল্লু বলেন – এগুলো বানোইয়াট ও গুজব। কিন্তু অনুসন্ধানে ঘটনাগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়।
রেপ কেস বানিজ্য – রাজশাহী নগরীর কাটাখালী থানা এলাকায় জয়পুর গ্রামে গত ০৯/১০/২০ইং তারিখ। এক যুবতি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে।এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছে ভূক্তভোগি। কিন্তু আসামী দিব্যি ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। শুধু এটাই নয় ইতি পূর্বেও কাটাখালী থানার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমানের বিরুর্দ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কাটাখালী পৌরসভার প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ঈসারায় এটেম টু মাডার থেকে শুরু করে মাডার মামলাও তিনি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়েছেন। ধর্ষনের বিষয়ে একাধীক নিউজ পোটালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তিনি আসামিকে পাকড়াও করছেন না।
ইউডি বনাম মার্ডার বানিজ্য – গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০ইং তারিখে সংবাদ চলমান অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। কাটাখালী থানার মোহনপুর মহল্লায়, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২০ মলি নামের এক মহিলা তার স্বামীর নিষ্ঠুর আঘাতে নিহত হন। নিহতের পরিবার কাটাখালী থানায় সংবাদ দিলে এসআই আঃ হাকিম ঘটনাস্থলে যান এবং জন সম্মুখে ভিক্টিমের সূরহাল রিপোর্ট তৈরী করেন, এ সময় ভিক্টিমের শরীর পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় সরিরে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু মামলা রেকর্ডের সময় এসআই হাকিম আঘাতের চিহ্ন গোপন করেন। আবার আসামির পিতাকে সঙ্গে নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আঃ হাকিম রামেক হাসপাতালে পোষ্ট মডেমের রির্পোটের জন্য তাদারকিও করেন।
মাদকাসক্ত ব্যাক্তির পক্ষ নেন ওসি জিল্লু – বিগত ১৪ই জুলাই ২০২০ইং তারিখের এক ঘটনায় কাটাখালী থানাধীন দালাল পাড়ার রবিউল নামের এক দোকানদার জানান, তার দোকানের পার্শ্বে প্রতিবেশি বিজয় তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গাঁজা খাচ্ছিল। এতে বাধা প্রদান করলে বিজয় হাসুয়া দিয়ে কোপ দেয় আমাকে । এতে আমার গাল মারাক্তক ভাবে কেটে যায়। স্থানীয়রা বঘাটে বিজয়ের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে আশংকা জনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে কাটাখালী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি জিল্লুর রহমান মামলা না নিয়ে তাড়িয়ে দেন।








