ঢাকা | মে ১৪, ২০২৬ - ১:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পটুয়াখালীর দুমকিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগে  কোটি টাকার দূর্নীতি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, August 18, 2023 - 12:14 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 67 বার
মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা  প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় ত্রাণ ও দূর্যোগ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের বিলের টাকা প্রায় কোটি টাকার দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুমকী উপজেলা
বাসীর পক্ষে মো,শাহজাহান খাঁন।
 এসব প্রকল্প থেকে  কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়া সহ টাকা পরিশোধ না করে মেম্বারদের কাছ থেকে বিলে সই করিয়ে নেয়া হয়েছে এমনটাই অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ব্যাংকের একাউন্টে  না দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। গত  ২০২১-২০২২ অর্থবছরের অন্তত: ২৫/৩০ টি প্রকল্প বিলের সমুদয় অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অফিস সহায়ক জুয়েল হাসান গাঢাকা দেয়।
গত ১০ জুলাই উপজেলার ৩নং মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন মুরাদিয়া গ্রামের মো: শাহজাহান খানের লিখিত অভিযোগে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের এমন অর্থ কেলেঙ্কারীর ঘটনা জনসম্মুখে  প্রকাশ পায়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত পিআইও রাজিব বিশ্বাসের একান্ত অনুগত (আউট সোর্সিং) অফিস সহায়ক জুয়েল হাসানকে দিয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের টিআর, কাবিখা (সাধারণ ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক) ২য় পর্যায়ের সকল প্রকল্পের বিলের টাকা ইজিপিপি নন-ওয়েজ, ইজিপিপি প্রশাসনিক বিলের টাকা, ট্যাগ কর্মকর্তাদের সন্মানীসহ অফিসের অন্যান্য খাত এবং বিভিন্ন জনকে সুবিধা দেয়ার আশ্বাসে নূন্যতম ১থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইও রাজিব বিশ্বাস ও তার দপ্তরের অন্যকোন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কোন দাযিত্ব প্রদান করেন না। এ ঘটনায় পারপেতে অতি সুকৌশলে অফিস সহায়ক জুয়েল কে পলাতক দেখাচ্ছে।
এদিকে দুমকি উপজেলায় নতুন পিআইও পদায়ন হওয়া স্বত্বেও তাকে চার্জ প্রদান করা হয়নি বলে জানা যায়।
মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর মোঃ মিজানুর রহমান মনোয়ার দৈনিক বরিশাল সমাচারকে জানান, আমার ওয়ার্ডে সিপিসির ৩ টি প্রকল্পের মধ্যে দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পিআইও রাজিব বিশ্বাসের নির্দেশে জুয়েল আমার কাছ থেকে একটি ভুয়া বিল সহ ৩ টি বিলে সই করিয়ে নেয় কৌশলে। আমাদের একাউন্ট নাম্বার নিলেও একাউন্টে কোন টাকা বা চেক দেয়া হয়নি বলে জানান। পরবর্তীতে একটি কাজের ৫০ হাজার ও অন্য  একটি কাজের ৪০ হাজার টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে আমার কাছে পাঠানো হয়। এখনও আমার ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে এছাড়া ভুয়া বিলে ৯০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন অফিস কতৃপক্ষ।
অপরদিকে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো, জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আমার একটি সিপিসি প্রকল্পের এক লক্ষ টাকার বিল থেকে চেয়ারম্যানের মারফত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও ৪০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। পিআইও রাজিব বিশ্বাষ ক্ষমতার বলে আমাকে বিল কাগজে সই দিতে বলে আমি সই করে দিয়েছি। এখন শুনি তারা বিল তুলে নিয়ে গেছে আমার কি হবে।
এ বিষয় মুয়াদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, পিআইও রাজিব এবং জুয়েল সিপিসি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন নিয়ম বহির্ভুত ভাবে  তারা এ টাকা আত্মসাৎ করেছে এটা সত্যি।  ইউএনও বিল অনুমোদন দিয়েছেন। সেই বিল সিপিসিদের একাউন্টে না দিযে কিভাবে তুলে নেয়া হলো আমরা এ বিষয়ে আদালতে মামলা করবো বলে জানান।
এ ব্যপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাসের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন  করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আল ইমরান মুঠোফোনে জানান, এটা অফিসিয়াল বিষয় অফিশিয়াল  ভাবেই সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে ফোনে এর বেশি কিছু বলা যাবেনা প্রয়োজন হলে প্রতিনিধির সাথে সামনাসামনি কথা বলতে চান তিনি।এসময় তিনি আরো বলেন, আমি বিল অনুমোদন দিয়েছি এর বাইরে আমি কিছুই জানিনা।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম জানান, বিষয়টি আমি আগে জানতাম না, আমি গত মাসের ২৪ তারিখে যোগদান করেছি। এ ব্যপারে নোট রেখেছি খোঁজ খবর  নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে  ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
উক্ত ঘটনার ব্যপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ বলেন,মহাপরিচালকের বরাবরে একটি অভিযোগ ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছি। তবে ফোনে  তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তিনি ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।