মির্জাপুরে ৫০টি স্পটে চলছে মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা
মোঃ রুবেল মিয়া, স্টাফ রিপোর্টারঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৫০ স্পটে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা চলছে। কেটে নেয়া হচ্ছে পাহাড়ের লাল মাটির টিলা,উঁচু বসত বাড়ির লাল মাটি, কৃষি জমি ও নদীর তীর। এমনকি নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানিয়ে মাটি পরিবহনের ঘটনাও ঘটছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থের লোভে, বেকায়দায় পড়ে, আবার কেউ কেউ চাপে পড়েও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন। আর নদীর তীর কেটে নেওয়া হচ্ছে প্রভাব খাটিয়ে। মাটি ব্যবসায়ীদের এমন দরাত্মে অসহায় হয়ে পড়েছেন এ এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মির্জাপুর পৌরসভার বংশাই নদী সংলগ্ন কুমারজানি, হাতেম টাউনের অংশ, ফতেপুর ইউনিয়নের গোড়াইল,থলপাড়া, পারদিঘী,জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া, গোড়াই ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া চকে, বংশাই নদীর রশিদ দেওহাটা অংশ, লৌহজং নদীর কদিম দেওহাটা(পাহারপুর ব্রীজর উত্তর অংশ), বহুরিয়া ইউনিয়নর আনাইল বাড়ি,চান্দুলিয়া, লৌহজং নদীর মীর দেওহাটা- বুধিরপাড়া অংশে বাঁধ দিয়ে বুধিরপাড়া চকে, বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া,গায়রাবেতিল,লতিফপুর ইউনিয়নের বংশাই নদী সংলগ্ন ত্রিমোহন, চাঁনপুর ব্রীজের পশ্চিম পাড় ও পূর্ব পাড়,আজগানা ইউনিয়নের বংশাই নদী সংলগ্ন ভুলুয়া অংশ, কুড়িপাড়া, তেলিনা,আজগানা পূর্ব পাড়া, তরফপুর ইউনিয়নের ছিট মামুদপুর, ধানেরচালা সহ পরিদর্শন করে অন্তত ৫০টি স্পটে ভেক্যু দিয়ে মাটি কাটার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।এছাড়া উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় মাটি কাটার প্রস্ততি চলছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
এভাবে অবাধে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে উপজেলার কৃষি আবাদি জমির পরিমাণ উল্লখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে, নদীর তীর এলাকায় মাটি কাটার ফলে নদীর গতিপথ পাল্টে রাস্তা ঘাট বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে এমনকি বিগত সময় নদী তীরের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে অসংখ্য বাড়ি ঘর,রাস্তা ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অপরদিকে পাহাড়ি এলাকার লাল মাটির টিলা কেটে নেওয়ায় সেখানকার জীব বৈচিত্র ধংসের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আর মাটি পরিবহন ব্যবহৃত গাড়ির ওভারলোডে গ্রামীন রাস্তা ঘাট ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কদিম দেওহাটা এলাকার বাসিন্ধা লাভলু মিয়া বলেন, বাইমহাটি এলাকার ছানোয়ার আমার বাড়ি সীমানা ঘেষে মাটি কাটতেছে। এই ভাবে মাটি কাটলে আমার বাড়ি যে কোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
পাথালিয়া পাড়ার নাম প্রকাশ অনিছুক এক গৃহিনী বলেন, দিনরাত এখান দিয়া ট্রাক চলে। আগে আমরা প্রতিবাদ করছি। কোন কাজ হয়না, মাটি কাটা চলেই। তাই এখন আর প্রতিবাদ করিনা।
সাধারণ মানুষের দাবি, অর্থদণ্ড দিয়ে এই মাটি ব্যবসায়ীদের থামানো যাবেনা। প্রশাসনের তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা হতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সঞ্জয় কুমার পাল বলেন,এভাবে কৃষিজমি ধংস হতে থাকলে এ এলাকায় কৃষি বিপর্যয় নেমে আসবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কৃর্তপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবো।
মির্জাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন এ ব্যাপারে বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাটি ব্যবসায়ীদের জেল জরিমানা করছি এবং খোঁজ নিয়ে আরাও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।








