সখীপুরে তিন শতাধিক কলাগাছ কাটায় থানায় অভিযোগ
শরিফুল ইসলাম বাবুল, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে পূর্ব শত্রুতার জের উল্লেখ করে মঞ্জুরুল হক মজনু(৬২) নামের এক কৃষকের প্রায় এক বিঘা জমিতে রোপণ করা অন্তত তিন শতাধিক কলাগাছ কর্তনের অভিযোগ করেন।ঘটনাটি উপজেলার চতলবাইদ মিয়াপাড়া এলাকায়।
সরজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, থানার অভিযোগ পর্যালোচনা ও স্থানীয় বন বিভাগের সাথে কথা বলে কলা গাছ কাটার বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই অভিযোগ এবং সংবাদ প্রকাশে প্রতিবাদ জানান অভিযুক্ত ফারুক মিয়া।
এ বিষয়ে মনজুরুল হক বাদী হয়ে ফারুক মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সখীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সখীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে বন বিভাগের নলুয়া বিট কর্মকর্তা একেএম সাদেকুজ্জামান বলেন, জমিটি বন বিভাগের সৃজিত বনায়নের আওতায়। মনজুরুল হককে আমি পূর্বের ফলন পাওয়ার পরে অন্য কোন ফসল রোপন করতে না করেছিলাম। তবে গাছ কাটার বিষয়টি দুঃখজনক।
উল্লেখ্য, ওই জমির মালিক দাবি করে মঞ্জুরুল হক মজনু জানান, গত ৬ জুলাই(শনিবার) সকালে কাজের উদ্দেশ্যে কলা বাগানে আসলে দেখতে পাই আমারই প্রতিবেশী ফারুক মিয়া(৫৫), তার ছেলে সাইফ মিয়া(২২), শাহিনুর রহমান, সোহান সহ কয়েকজন মিলে আমার বাগানের কলাগাছ কেটে ফেলছে। এসময় আমি তাদেরকে গাছ কাটতে নিষেধ করতে গেলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রকাশ্যে হুমকিসহ আমাকে মারতে আসে। আমার চিৎকার চেচামেচিতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ওরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ওই কৃষক দাবি করেন, ফারুক ও তার সহযোগীরা মিলে আমার বাগানের অন্তত তিন শতাধিক কলাগান কর্তন করেছে। এতে আমার প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাঁরা আমার জমিতে কলা গাছের সাথে শত্রুতা করে আমার ক্ষতি করেছে। কলা গাছগুলো মাজা পর্যন্ত কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি ধার দেনা করে কলা রোপণ করেছিলাম। আমার বড় সর্বনাশ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই সখীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক মিয়া জানান, আমি কোন কলাগাছ কর্তন করিনি। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার নামে একটি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।








