ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

জমি দখল ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে রনি মাঝি নামের এক সাবেক যুবদল নেতার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, February 3, 2025 - 3:33 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 46 বার

শরীয়তপুর:নড়িয়া সাবেক যুবদল নেতার আয়না ঘর শরীয়তপুরের অন্তত ১০ পরিবারের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে রনি মাঝি নামের এক সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের বাহের কুশিয়া মৌজার সাড়ে ৮ একর সম্পত্তির মালিক অলোক কুণ্ডু ও তার পরিবার। পরে জায়গাটি জোর করে দখলে নেয় স্থানীয় বিএনপি নেতা হায়দার মাঝি। আদালতের মাধ্যমে সেই সম্পত্তি আলোক কুণ্ডু ও তার পরিবার বুঝে দেয়া হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়া উক্ত জমি নাজির খান নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন তাঁরা। বর্তমানে নাজির খান সেই সম্পত্তি প্লট আকারে বিক্রি করেন। উক্ত জমিতে প্রায় ৪০ প্লট ক্রয় করে ১০ পরিবার বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আছেন।

এদিকে গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর হায়দার মাঝির ছেলে ও সাবেক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি মাঝি বসবাস রত বাড়িগুলোতে গিয়ে, চাঁদা দাবি করেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ বসবাস শত পরিবারগুলো ।

এ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসার পর পুনরায় লোকজন নিয়ে অভিযোগকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে জায়গার মালিক নাজির খাঁন বলেন, আমি সাব-কবলা দলিল মূলে অলোক কুণ্ডু ও তার ভাইদের কাছ থেকে সম্পত্তিটি কিনে নেই। সেখানে হিন্দুধর্মের ও মুসলিম ধর্মের বেশ কিছু পরিবার সম্পত্তি কিনে বসবাস করছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগে সরকার পতনের পর রনি মাঝি সেখানের বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে যাচ্ছেন। অনেকেই তার ভয়ে চাঁদা দিচ্ছেন। তাছাড়া রনি মাঝি তার লোকজন সেখানে থাকা আমার অফিসটি জোর করে দখলে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। এছাড়াও তিনি লোকজন ধরে নিয়ে তার বাড়িতে মারপিট করে ছেড়ে দেন এবং তিনি আয়না ঘর নামে একটি ঘড় নির্মাণ করেন।

মো. শাহজাহান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা নাজির খানের কাছ থেকে দলিল দেখেই কিনেছি। আমাদের জমির খাঁজনা ও দাখিলাকাটা আছে । সরকার পতনের পর কিছু দুষ্কৃতিকারী ও রনি মাঝি আমাদের এখানে এসে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছেন। না দিলে হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমান সরকার ও প্রশাসন যেন বিষয়টি একটু দেখেন।

আব্দুর রশিদ সরদার নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি এখানে আমার দুই সন্তানের জন্য দুইটি প্লট কিনেছি। এখন রনি মাঝি এসে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা চায়। তারা একটি ঘর ভেঙেও নিয়ে গেছে। আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রনি মাঝি বলেন, ওইটা আমার বাড়ি, এটা সবাই জানে। আর আমি চাঁদা দাবি করিনি। যারা অভিযোগ করেছে তাদের আমার কাছে নিয়ে আসেন। এসময় তিনি রাগান্বিত হয়ে মুঠোফোনে লাইন কেটে দেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ঘড়িসার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান হরমুজ মুন্সি। তিনি বলেন, তারেক রহমানের আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন কেউ যাতে দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করতে না পারে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির চাঁদাবাজির করার সুযোগ নেই। আমরা এই ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।