ফুলবাড়িয়াকে আলোকিত উপজেলা গড়তে সকলের সহযোগিতা চান ইউএনও আরিফুল
মেঃ আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলা ও দুর্নীতি অনিয়মসহ নানা অভিযোগের অন্ত নেই জনগণের। তবে সৎ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধন কর্মকর্তার সংখ্যাও আজকাল কম নয়। তারা লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন সাধারণ জনগণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে। তেমনি একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম । নিজের কর্মস্থলকে একটি সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ৬ জানুয়ারী ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদে যোগদান করেন আরিফুল ইসলাম।
যোগদান করার পরই সরকারের সার্বিক উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার সরকারী অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে এবং উপজেলার বিশিস্ট জনের কাছ থেকে লব্ধ ইতিবাচক পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত জন সম্পদ বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান্য দেওয়াসহ কৃষির ব্যপারে দেশীয় কৃষিজাত কৃষি উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা, নারীদের উন্নয়নে আয়বর্ধক কাজে কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিয়ে কাজ শুরু করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার । যাতে করে নিজেরা স্বাবলম্বি হতে পারে। এজন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি সেবা প্রদানে সঠিকভাবে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং উপজেলার অবৈধ জমি, খাল, পুকুর ইত্যাদি দখল মুক্ত করণের জন্য পদক্ষেপ নেন। সকলের সহযোগীতায় এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে ফুলবাড়িয়াকে আলোকিত উপজেলা গড়তে চান ইউএনও আরিফুল ইসলাম।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে-যোগদানের এক মাসেই তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। ফুলবাড়িয়া উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরালসভাবে কাজ করছেন ইউএনও । উপজেলার নাম দিয়েছেন “সমৃদ্ধ ফুলবাড়িয়া’ জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করছেন উপজেলার সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও সর্ব ক্ষেত্রেই রয়েছে এই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদচারণা। দাপ্তরিক কাজের বাইরে সকাল-বিকাল ছুটে বেড়ান মাঠ-ঘাট। কথা বলেন উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে। শোনেন তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা। খোঁজখবর নেন সমাজের অবহেলিত গরিব-দুঃখী মানুষের। পরিদর্শন করেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলার নানা উন্নয়ন প্রকল্প। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে নেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তা ছাড়া গণমাধ্যম, ফেসবুক, মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
সমন্বিত উদ্দোগের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নয়নমুখী আলোকিত ফুলবাড়ীয়া গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান-
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ময়মনসিংহ জেলা তথা বাংলাদেশের একটি অন্যতম উপজেলা। এখানে অনেক জ্ঞানী গুনী লোক বাস করেন। এখনও এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন প্রয়োজন। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জনগনের দোরগোড়ায় সরকারী বেসরকারী সেবা দ্রুত পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।
সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জন্য একটি পুর্নাংগ ওয়েব পোর্টালে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সকল সরকারী অফিসসহ ব্যাপক তথ্য সন্নিবেশিত করার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। পোর্টালটি সাধারণ জনগনের জন্য একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা ময়মনসিংহ জেলায় একটি বিনোদন ও কেন্দ্র হিসাবেও পরিচিত। উপজেলার
এনায়েতপুর ইউনিয়নে রয়েছে ১০টি বিভিন্ন প্রকারের রাইড নিয়ে নির্মিত একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র ও পিকনিকস্পট আলাদিনস্ পার্ক। এখানে উন্নতমানের ওয়াটার রাইড ও সুইমিং পুলরয়েছে। এর ভিতরে একটি ছোট চিড়িয়াখানাও রয়েছে। এটি একটি ময়মনসিংহের পিকনিকস্পট। রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র অর্কিড বাগান। উপজেলার সন্তোষপুরে রয়েছে রাবার বাগান।প্রায় ১০৬ একর জমি নিয়ে অবস্থিত। রাবার বাগান থেকে সংগৃহিত রাবার প্রক্রিয়াজাত করে দেশ বিদেশে রপ্তানি করে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে থাকে। এসব বিভিন্ন কারণে ফুলবাড়িয়া একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। সরকারের নিয়ম নীতি মেনেই ফুলবাড়িয়াকে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে চান ইউএনও আরিফুল ইসলাম। আর এ জন্য সাংবাদিকসহ উপজেলার সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের সহযোগীতা দরকার বলে জানিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখার পাশাপাশি ফুলবাড়িয়াকে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সকলকে পাশে থাকারও আহবান জানান ইউএনও’।
উপজেলার জোড়বাড়িয়া ইছাইলবিল এলাকার কাজী আবু তাহের জানান- আমাদের একটি গভীর নলকুপ গত ২০২০ সাল থেকে সাবেক সাবেক ম্যানেজার শাহাবুদ্দিন এর সাথে গবীর নলকূপের মালামাল নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে মামলা নিয়ে বিরোধ জনিত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের এলাকার প্রায় ৪৮ একর জমি চাষাবাদ করতে পারেনি স্থানীয় কৃষকরা।এতে কৃষি জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কোন সুষ্ঠু সমাধান দেয়নি।গত ২-৩ বছর বন্ধ থাকার পর বর্তমান ইউএনও আরিফুল ইসলাম কৃষকদের পাশে দাড়িয়ে এর সুষ্ঠু সমাধান দেওয়ার ফলে এবছর আমরা গভীর নলকূপটি চালানোর অনুমতি পাওয়ায় কৃষকরা এবার জমিতে ফসল ফলাতে পারবে। এতে ইছাইলবিল এলাকার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
ফুলবাড়িয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা, কর্মরত সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে উপজেলার যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভুমিসেবাসহ সকল সেক্টরের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে উপজেলাকে আধুনিক উপজেলা হিসাবে গড়ে তোলতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন ৩৬ বিসিএস ব্যাচ এ উত্তীর্ণ মেধাবী এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
কোন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান- সেবা নিতে আসা সুবিধা ভোগেী মানুষ যাতে কোন ভাবে হয়রানীর শিকার না হয়, সেজন্য দায়িত্বশীলতার সাথে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। এজন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন ইউএনও।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের স্বপ্ন পুরণে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে আমাদের জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় ,এ উপজেলাকে “সমৃদ্ধ ফুলবাড়িয়া” হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা সব সময় আমার কাজে সহযোগিতা করছেন। তারপরও সমৃদ্ধ ফুলবাড়িয়া গড়তে আমি সকলের সহযোগিতা চাই।
তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। নিজে কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, দেশ ও জাতীর জন্য কি করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব সময় চেষ্টা করি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের। আমি হয়তো একদিন এই উপজেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম। যদি ভালো কাজ করে যেতে পারি, তাহলে ফুলবাড়িয়াবাসী আমাকে আজীবন মনে রাখবে।








