ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

এফবিসিসিআই নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, July 16, 2025 - 6:53 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 149 বার

বিশেষ প্রতিবেদক:এফবিসিসিআই (FBCCI) নির্বাচন ঘিরে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। এটা কি আওয়ামী লীগ আমলের সালমান এফ রহমান কিংবা এস আলম গোষ্ঠীর এক নতুন সংস্করণ? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রকে মুঠোয় নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত পুনরাবৃত্তি?

এই নতুন মঞ্চের কেন্দ্রে রয়েছেন পারটেক্স ও অ্যাম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেল। একসময় তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশংসিত হলেও আজ তিনি পরিচিত ঋণ খেলাপি, নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের কাঠামো অপব্যবহারের প্রতীক হিসেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শওকত আজিজ রাসেল ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের মোট ঋণের পরিমাণ ৳১৩,৪৩৪.১৬ কোটি, যার মধ্যে ৳৫,২১১.২৬ কোটি ওভারডিউ এবং প্রায় ৳১৯,৯১০.৫৮ কোটি টাকা বিভিন্ন স্টে অর্ডার-এর মাধ্যমে আটকে রাখা হয়েছে।

ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানসমূহ: পারটেক্স গ্রুপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ: বার্ডেক্স প্লাস্টিকস: ঋণ ৳৯২৫.১৫ কোটি (ওভারডিউ ৳৩০৯.৫৫ কোটি) বার্ডেক্স সুগার মিলস: ঋণ ৳৯৪৯.৩৯ কোটি (ওভারডিউ ৳৫৭৬.৩০ কোটি) বার্ডেক্স পেপার মিলস: ঋণ ৳৩,৫৮৬.৭২ কোটি বার্ডেক্স ওয়াল্ড অ্যান্ড ফ্লোর মিলস: ওভারডিউ ৳৪৪১.২৫ কোটি।

অ্যাম্বার গ্রুপের প্রতিষ্ঠানসমূহ:অ্যাম্বার বোর্ড মিলস: ঋণ ৳২,২৩৬.৮৪ কোটি। অ্যাম্বার কটন মিলস: ঋণ ৳২,০৭৬.১২ কোটি (ওভারডিউ ৳৯০৮.৭৮ কোটি)
অ্যাম্বার সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ: ঋণ ৳২,৪৩৪.৯২ কোটি (অডিট আপত্তি ৳৪৬৭.২৮ কোটি)।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকসমূহ: এই খেলাপি ঋণের বোঝা বইছে দেশের শীর্ষ ব্যাংকগুলো, যেমন:

অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (SIBL) , মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB), ইউনাইটেড ফাইন্যান্স

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স

শওকত রাসেলের বিতর্কিত জীবনযাপন বহুবার আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর বাওয়াল রিসোর্ট ও ঢাকা বোট ক্লাব-এ প্রাক্তন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল খোলামেলা, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের মাঝে এক অশুভ জোট গড়ে উঠেছিল।

তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক, ক্লাব ও নারীসংক্রান্ত বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক বিবাহ, নারী নির্যাতনের অভিযোগ ও বিদেশে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিকানা। সিআইডি ইতিমধ্যে সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন
বিগত সরকারের শাসনামলে যেভাবে সালমান এফ রহমান, এস আলম গোষ্ঠী ব্যবসার নামে রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছিল—আজ সেই একই ধাঁচে শওকত আজিজ রাসেলকেও FBCCI নির্বাচনে এনে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যানারের নিচে দাঁড় করানো হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তিকে যার চরিত্র ও অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অপরাধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আরেকটি প্রচেষ্টা বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

###