সফলভাবে সমাপ্ত — বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়।
বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে আজ সমাপ্ত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ড (USARPAC) এর যৌথ সামরিক মহড়া “এক্সারসাইজ টাইগার লাইটনিং (টিএল)-২০২৫”। ২৪ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ার মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত প্রস্তুতি ও সামরিক সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়া কমান্ডার এবং ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স, অ্যাম্বাসেডর ট্রেসি এ্যান জ্যাকবসন। এই দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামরিক বন্ধুত্বের দৃঢ় বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠানকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মঞ্চে রূপ দেন।
মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের ১০০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ডের ৬৬ জন সদস্য। অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তার কৌশলগত প্রয়োগসহ আধুনিক সামরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপে একে অপরের কৌশল শিখে নেওয়া ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সেনাসদস্যকে অনুশীলন সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতি হিসেবে সার্টিফিকেট ও ইনসিগনিয়া প্রদান করা হয় — যা তাদের জন্য শুধু স্মারক নয়, বরং একটি সম্মান ও দায়িত্বের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট অঞ্চলের সকল সেনা কমান্ডার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা সদর এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যৌথ মহড়াটি শুধু পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতেই সহায়ক হয়নি, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সামরিক আস্থার ভিত্তিও আরও মজবুত করেছে।
বিশ্লেষণ:
এই মহড়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোয় আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রস্তুত। শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং সন্ত্রাস দমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো জটিল প্রশ্নেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন আস্থা যোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে — যা ভবিষ্যতের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এমন অনুশীলন কেবল কৌশল নয়, বরং দু’দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিরাপত্তার বন্ধনকেও গভীরতর করে।








