ঢাকা | মে ৩, ২০২৬ - ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কাপ্তাইয়ে তীব্র লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ জনজীবন, দেখা দিয়েছে ক্ষোভ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, July 30, 2025 - 5:01 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 117 বার

কাপ্তাই প্রতিনিধি:- রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। এতে করে জনজীবনে তীব্র ভোগান্তি নেমে এসেছে। আজ প্রায় কয়েক মাস যাবৎ এমন লোডশেডিং হলেও এর কোন সমাধান না পাওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেবল জনসাধারণের বাসা বাড়িতে নয় এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে কাপ্তাইয়ের স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে। এতে করে শ্রেণীকক্ষে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে ব্যাপক কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। পাশাপাশি সরকারি দপ্তর গুলোতে লোডশেডিং এ অফিসিয়াল কার্যক্রম চলমান রাখতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া
হাসপাতালে থাকা রোগীরাও এমন লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় অসস্থি বোধ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আরমান আলী, সেকান্দার ভুঁইয়া সহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকা সত্তেও স্থানীয় বাসিন্দারা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থাৎ কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত সকল বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। অথচ এখানকার বাসিন্দারা এর সুফল পাচ্ছেনা। তারা অনেকেই দাবী জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর কিছুটা হলেও যেন কাপ্তাই এলাকায় বন্টন করা হয়। এতে করে জনজীবনে সস্তি নেমে আসবে।

কাপ্তাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আশিক, সুমন মিয়া সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বাসা বাড়িতে যেইভাবে লোডশেডিং হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। বাসায় কোন কাজ ঠিকভাবে করা যাচ্ছে। বয়স্ক ও শিশুরা তীব্র লোডশেডিং ও গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও কোন সমাধান হচ্ছেনা। এইভাবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী সুজন দাশ, মোঃ সাহাবুউদ্দীন সহ কয়েকজন বলেন, অনেকসময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া অনেকবার বিদ্যুৎ যায় আর আসে। বিদ্যুৎ সময় মত না থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের একটা লোকসানে পড়ছে। অনেকবার বলার পরেও এর সমাধান তারা পাচ্ছেন না।

এদিকে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ বন্টন করে থাকে
চন্দ্রঘোনা আবাসিক প্রকৌশলী বিতরণ বিভাগ। তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, ঝড় বৃষ্টি, বাতাস না হলেও বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে একবার বিদ্যুৎ গেলে আর আসার কোন খবর থাকেনা।

এ বিষয়ে কথা বলতে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা আবাসিক প্রকৌশলী এ কে এম শামসুল আরেফিন কে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন কল রিসিভড না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চন্দ্রঘোনা আবাসিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, কাপ্তাই ছাড়াও তাদের পাশের আরো দুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়। জনবল সংকট তো আছেই। তাই তাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তারা এসকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান।