ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ১:৩২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ময়লার ভাগাড়, জনবল সংকটে ভোগান্তি রোগীদের

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 15, 2025 - 5:45 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 50 বার

রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:শয্যা সংখ্যা বাড়লেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার ৭ বছর পার হলেও জনবল ঘাটতি, পরিচ্ছন্নতার অভাব ও অব্যবস্থাপনায় ভুগছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা।

সিঁড়ি, ওয়ার্ড ও জানালার পাশে জমে আছে পলিথিন, পরিত্যক্ত খাবার, ব্যবহৃত সিরিঞ্জসহ নানা আবর্জনা। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও নার্সরা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন যার ফলে নিচে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়া, পলেস্তার খসে পড়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া লাইটে চারপাশ অন্ধকার থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রোগীরা।

জনবল সংকটে ভোগান্তি

হাসপাতালের ১৩৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৬ জন, শূন্য রয়েছে ৫০টি পদ। চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য পদে জনবল ঘাটতির কারণে রোগীদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। সামান্য রোগ নিয়েও আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হঠাৎ পরিদর্শনে প্রীতম দাশ

রোববার দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন। তিনি রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে আসে, কিন্তু চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা অপ্রতুল। ৪ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে ময়লা-আবর্জনা, নোংরা বাথরুমের অবস্থা রোগীদের জন্য ভয়াবহ। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে মানুষ আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাতের বেলা এ হাসপাতালে মাদকসেবনসহ নানা অপকর্মও হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন,
“আমরা আশা করবো জেলা সিভিল সার্জন দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।”

দুর্নীতির অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাকে বদলি করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

ফেসবুকে তারেক আহমদ নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করে লেখেন, “মানুষের চিকিৎসাসেবাকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া। তার কারণে এমবিবিএস ডাক্তার আসতে চান না। মহিলা ডেলিভারি রুমের অবস্থা ভয়াবহ।”

দায়সারা বক্তব্য কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া জানান, প্রথম শ্রেণির ডাক্তার ও কনসালটেন্টের ১৯টি পদের মধ্যে মাত্র ৮টিতে লোক আছে, বাকিগুলো শূন্য।