ঢাকা | মে ২৫, ২০২৬ - ৪:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ধামইরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ,

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, May 24, 2026 - 7:04 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও পৈতৃক বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। গত ২২ মে বিকেলে উপজেলার ৮নং খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী মোঃ ইয়াকুব আলী (৭৪) ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই সীমানা বিরোধ নিরসনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোগ নিলেও ভুক্তভোগী পক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রসপুর মৌজার একটি জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষ মোঃ আতোয়ার রহমান, মোঃ আঃ সালাম ও মোঃ আবুল কালাম গংদের সাথে ইয়াকুব আলীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির মালিকানা ও অধিকার নিয়ে বর্তমানে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলী বলেন, “উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। এখনো মামলার কোনো চূড়ান্ত রায় বা নিষ্পত্তি হয়নি। অথচ আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই প্রতিপক্ষরা এভাবে বেআইনিভাবে আমার ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।” তাঁর দাবি, হামলায় তাঁর টিনের ঘরের আনুমানিক ৩০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে এবং বাধা দিতে গেলে তাঁর পুত্রবধূর সাথেও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
তবে ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই জমি সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ৮নং খেলনা ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলীকে বেশ কয়েকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হননি। উপস্থিত না হওয়া বিষয়ে ভূক্তভোগী ইয়াকুব আলী বলেন, ” পরিষদের কাগজে স্বাক্ষর করে কাগজের ফাঁদে পড়ার ভয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাইনি। ” পরবর্তীতে গত ২২ মে ইউপি চেয়ারম্যান, গ্রাম পুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সরকারি ও স্থানীয় আমিনের (সার্ভেয়ার) মাধ্যমে জমি সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয় এবং সেখানে খুঁটি স্থাপন করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, পরিমাপের সময় ইউপি চেয়ারম্যান অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব দেখিয়ে ইয়াকুব আলীকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “আপাতত পরিমাপ অনুযায়ী খুঁটি দেওয়া হলো। তবে এই মাপ যদি আপনার পছন্দ বা বিশ্বাস না হয়, তাহলে আপনি নিজে আবারও আপনার সুবিধামতো সরকারি বা বেসরকারি আমিন নিয়ে এসে নতুন করে মাপা-মাপি করিয়ে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করতে পারেন।” কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে খুঁটি স্থাপন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে ঘর ভাঙচুরের অভিযোগে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সুষ্ঠু তদন্ত চান ভুক্তভোগী, অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে হওয়া পরিমাপের ভিত্তিতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ধামইরহাট থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।