যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কেন আর্থিক সক্ষমতার ওপর এত গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ?
মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি:যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা (Financial Self-Sufficiency) এখন আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো—দেশে প্রবেশের পর কোনো ব্যক্তি যেন সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন। এ কারণে আবেদনকারীর আয়, সম্পদ, চাকরি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক অবস্থা এখন নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
মার্কিন অভিবাসন আইনের “Public Charge” নীতির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তা বা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখেন তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজের খরচ বহন করতে পারবেন কি না। এজন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির কাগজপত্র, বিনিয়োগ, নিয়মিত আয় এবং প্রয়োজনে স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র স্পনসর থাকলেই হবে না—অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজস্ব আর্থিক ভিত্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসী ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ দেখতে চায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী থাকতে পারবেন কি না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন “পাবলিক চার্জ” মূল্যায়ন সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়নে আরও বিস্তৃত বিবেচনার সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে আর্থিক নথিপত্র, আয়ের প্রমাণ এবং স্পনসরের কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিবাসন আইনজীবীদের পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে নিজের আর্থিক তথ্য, কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চাকরির প্রমাণপত্র এবং স্পনসরের নথি ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত। এতে ভিসা বা গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা জটিলতার ঝুঁকি কমে।








